চলমান বিগ ব্যাশ লিগে দুর্দান্ত ফর্মে থাকলেও আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য পাকিস্তান দলে হারিস রউফের জায়গা পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এই পেসারের বাদ পড়ার সম্ভাবনা নিয়ে পাকিস্তানের ক্রিকেট অঙ্গনে আলোচনা চলছে বেশ জোরেশোরে। অবশেষে এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন রউফ নিজেই।
এক সাক্ষাৎকারে হারিস রউফ বলেন,
“আমি যদি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দলে না থাকি, তাহলে অবশ্যই সেটা হতাশাজনক হবে। তবে এতে আমার ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাবে না।”
তিনি আরও বলেন, নিজের পারফরম্যান্স উন্নত করাতেই এখন তার পুরো মনোযোগ।
“আমি আমার সেরা পারফরম্যান্স দেওয়ার চেষ্টা করছি এবং নিজের বোলিং নিয়ে আরও কাজ চালিয়ে যাচ্ছি,”—যোগ করেন তিনি।
জাতীয় দলের প্রতি সমর্থন জানিয়ে রউফ বলেন,
“টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান দলের জন্য আমার শুভকামনা রইল।”
নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি ক্রিকেটের কঠিন বাস্তবতা ও ধারাবাহিকতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন।
“আমি যখনই পাকিস্তানের হয়ে খেলেছি, শতভাগ উজাড় করে দিয়েছি। ডেথ ওভারে বোলিং করা মোটেও সহজ কাজ নয়,”—বলেন রউফ।
একই সঙ্গে সমালোচনা ও খেলোয়াড়দের প্রতি দুর্ব্যবহারের পার্থক্যও স্পষ্ট করেন তিনি।
“কোনো খেলোয়াড়ের সমালোচনা আর তার সঙ্গে দুর্ব্যবহারের মধ্যে পার্থক্য আছে,”—মন্তব্য করেন এই পেসার।
এশিয়া কাপের পর থেকে নিজের ফর্ম নিয়ে আত্মবিশ্বাসী রউফ বলেন,
“এশিয়া কাপের পর থেকে আমি ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স করে যাচ্ছি।”
এরই মধ্যে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য আইসিসির কাছে একটি প্রাথমিক খেলোয়াড় তালিকা জমা দিয়েছে। ভারত ও শ্রীলঙ্কা যৌথভাবে এই বিশ্বকাপ আয়োজন করবে। সূত্র জানায়, আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত আইসিসির অনুমতি ছাড়াই ওই তালিকায় পরিবর্তন আনার সুযোগ রয়েছে পিসিবির।
সম্ভাব্য স্কোয়াডে রয়েছেন সালমান আলি আগা (অধিনায়ক), সাহিবজাদা ফারহান, সাইম আইয়ুব, ফখর জামান, শাদাব খান, বাবর আজম, ফাহিম আশরাফ, মোহাম্মদ নওয়াজ, উসমান খান ও আবরার আহমেদ। এ ছাড়া বিবেচনায় আছেন শাহিন শাহ আফ্রিদি, নাসিম শাহ, সালমান মির্জা ও খাজা নাফে। রিজার্ভ খেলোয়াড়দের মধ্যে থাকতে পারেন আবদুল সামাদ, মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র ও উসমান তারিক।
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান গ্রুপ ‘এ’-তে ভারতের সঙ্গে পড়েছে। একই গ্রুপে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, নেদারল্যান্ডস ও নামিবিয়া। পাকিস্তান তাদের সব গ্রুপ ম্যাচ খেলবে শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে।
মেন ইন গ্রিনস তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ৭ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এরপর ১০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে, ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিরুদ্ধে এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি নামিবিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলবে তারা। সুপার এইটে উঠলে পাকিস্তানের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে কলম্বো ও ক্যান্ডিতে।