নতুন চোরদের হাত অবশ করতে পারলে দেশের উন্নয়ন দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-১৫ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী এস এস হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বড় কাজ নয়, বড় মন ও দূরদর্শী ভিশনের প্রয়োজন। দেশের চুরি হওয়া অর্থ ফেরত আনতে পারলে এবং নতুন চোরদের হাত অবশ করতে পারলে বাংলাদেশের উন্নয়ন লাফিয়ে লাফিয়ে হবে।
উত্তরবঙ্গের নদী নিয়ে তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীগুলো আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত। অথচ গত ৫৪ বছরে কোনো সরকারই এসব নদী সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়নি। একসময় যে নদীতে জাহাজ চলাচল করত, সেখানে এখন সাধারণ নৌকাও চলতে পারে না। পানি কমে নদীগুলো মরুভূমির মতো হয়ে গেছে। তিস্তা, ধরলা, করতোয়া ও ব্রহ্মপুত্র—সব নদীর অবস্থাই প্রায় একই।
নদী মরে যাওয়ার অর্থ মাটি মরে যাওয়া উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবার ভোটে সরকার গঠন করতে পারলে উত্তরবঙ্গের মরা নদীগুলো পুনরুজ্জীবনই হবে প্রথম অগ্রাধিকার। পুরো উত্তরাঞ্চলকে কৃষিভিত্তিক রাজধানীতে রূপান্তর করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, উত্তরবঙ্গের মানুষ সহজ-সরল, পরিশ্রমী ও অল্পে তুষ্ট। তাদের পরিশ্রমের যথাযথ মূল্যায়নের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাশাপাশি নদীগুলোকে জীবন্ত করতে সমন্বিত মহাপরিকল্পনা গ্রহণের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
কোনো আধিপত্যকে ভয় না করার কথা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশে কোনো আধিপত্যের ছায়া দেখতে চান না তিনি। বিশ্বের সব সভ্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাইলেও কারও খবরদারি মেনে নেওয়া হবে না। ৫৪ বছরের রাজনৈতিক বন্দোবস্ত থেকে তৈরি ফ্যাসিবাদী শাসনের আমূল পরিবর্তনের আহ্বান জানান তিনি।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই শহীদদের প্রতি সম্মান জানাতে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে। তাদের স্বপ্ন ছিল দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যমুক্ত ও ন্যায়বিচারের বাংলাদেশ গড়া।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জনগণ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। এবার অনেক অপেক্ষার পর ভোটের সুযোগ এসেছে। এই ভোটের মাধ্যমে পুরোনো ব্যর্থ ব্যবস্থা ভাসিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
উত্তরবঙ্গের অর্থনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখানকার মানুষ কাজের সন্ধানে রাজধানীমুখী হচ্ছে। প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ঘরে বসেই উত্তরবঙ্গকে রাজধানীতে পরিণত করা হবে। যুবসমাজকে বেকার ভাতা নয়, দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
কৃষকদের দুর্দশার কথা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, উত্তরবঙ্গ দেশের খাদ্যভাণ্ডার হলেও কৃষক উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পায় না। মধ্যস্বত্বভোগী ও চাঁদাবাজির কারণেই কৃষক বঞ্চিত হচ্ছে। চাঁদাবাজ নির্মূলের অঙ্গীকার করেন তিনি।
নদী শাসনের বিষয়ে তিনি বলেন, নদীকে শাসন নয়, সন্তান হিসেবে লালন-পালন করতে হবে। নদীগুলোকে জীবন্ত করতে পরিকল্পিতভাবে সংরক্ষণ ও উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।