আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের আস্থা অর্জনে ব্যস্ত সময় পার করছে রাজনৈতিক দলগুলো। এরই ধারাবাহিকতায় নিজেদের রাজনৈতিক দর্শন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরতে নির্বাচনী ইশতেহার চূড়ান্ত করছে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোটসঙ্গী জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
জামায়াতে ইসলামী তাদের ইশতেহারে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম জানান, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে দুর্নীতি শূন্য প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জুলাই আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ইশতেহারে আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতের ইশতেহারে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা প্রবর্তনের স্পষ্ট রূপরেখা থাকবে। একই সঙ্গে নারী অধিকার রক্ষায় দলের অবস্থান ও পরিকল্পনাও পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হবে।
অন্যদিকে জামায়াতের জোটসঙ্গী জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আলাদা ই শতেহার নিয়ে কাজ করছে। এনসিপির ইশতেহারের মূল ভিত্তি হবে স্বনির্ভরতা, সুশাসন, কাঠামোগত সংস্কার ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব। দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন জানান, তরুণদের কর্মসংস্থান, নারীর অধিকার এবং স্বাস্থ্যখাত নিয়ে বিশেষ ও বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা থাকবে এনসিপির ইশতেহারে।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, “ফাঁকা প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবায়নযোগ্য ও জবাবদিহিমূলক ইশতেহার দিতেই আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।” পরোক্ষভাবে অন্য একটি রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করে তিনি জানান, জনগণকে বিভ্রান্ত করার মতো অবাস্তব প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করে না এনসিপি।
মনিরা শারমিন আরও স্পষ্ট করেন, জামায়াতের সঙ্গে জোটটি শুধুমাত্র নির্বাচনকেন্দ্রিক। নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, এনসিপি তাদের নিজস্ব মধ্যপন্থি রাজনৈতিক ধারায় কাজ চালিয়ে যাবে এবং নির্বাচনের পরও নিজেদের ইশতেহার অনুযায়ী কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ইশতেহার ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা বাড়ছে। ভোটারদের প্রত্যাশা পূরণে কোন দল কতটা বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা তুলে ধরতে পারে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে দেশবাসী।