কুমিল্লা–৪ (দেবীদ্বার) আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় আসনটি আপাতত ধানের শীষপ্রার্থীশূন্য হয়ে পড়েছে। এতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
তবে বিষয়টি এখনই চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর সামনে এখনও উচ্চ আদালতে যাওয়ার আইনি সুযোগ খোলা রয়েছে। আদালত থেকে অনুকূলে আদেশ পেলে তিনি আবারও ভোটের মাঠে ফিরতে পারেন—এমন নজির অতীতেও রয়েছে। যদিও আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ প্রক্রিয়া জটিল এবং সময়সাপেক্ষ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর চারবারের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী বিএনপির প্রার্থী হিসেবে কুমিল্লা–৪ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। প্রাথমিক যাচাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছিলেন।
তবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ নির্বাচন কমিশনে আপিল করে অভিযোগ করেন, মঞ্জুরুল আহসান ঋণখেলাপি হওয়ার তথ্য গোপন করেছেন। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সেই আপিল মঞ্জুর করলে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। তথ্যমতে, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর কোম্পানি (MAM Power Ltd.) Premier Bank ও IDLC থেকে নেওয়া ঋণ খেলাপি হয়ে ছিল, এবং ওই ঋণের বাকি টাকা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৯ কোটি টাকা।
অন্যদিকে, হাসনাত আবদুল্লাহর মনোনয়ন বাতিল চেয়ে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীও ইসিতে আপিল করেছিলেন। তবে সেটি না মঞ্জুর হওয়ায় হাসনাতের প্রার্থিতা বহাল থাকে।
আপিল ও উচ্চ আদালতের সুযোগ
নির্বাচনী বিধান অনুযায়ী, মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে প্রথমে নির্বাচন কমিশনে আপিল করা যায়। ইসির আপিল খারিজ হলে কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য হয়। এরপর উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও, নির্বাচন কমিশন স্পষ্টভাবে এখতিয়ারবহির্ভূত বা চরম অন্যায় করেছে—এমন প্রমাণ না থাকলে আদালত সাধারণত হস্তক্ষেপ করেন না।
২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে কয়েকজন প্রার্থী আদালতের মাধ্যমে প্রার্থিতা ফিরে পেলেও, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে বিষয়টি জটিল হয়ে পড়ে। ব্যালট পেপার ছাপার পর প্রার্থী তালিকা পরিবর্তন করাও কঠিন হয়ে যায়।
নির্বাচন পরিস্থিতি
আজ রোববার নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নসংক্রান্ত আপিলের শুনানি শেষ হচ্ছে। এরপর জানা যাবে কতজন প্রার্থী তাঁদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি। এরপরই কুমিল্লা–৪ আসনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ পাবে।
বর্তমানে এই আসনে এনসিপির হাসনাত আবদুল্লাহ ছাড়াও আরও চারজন প্রার্থী রয়েছেন—
ইনসানিয়াত বিপ্লবের ইরফানুল হক সরকার
খেলাফত মজলিসের মজিবুর রহমান
গণঅধিকার পরিষদের জসিম উদ্দিন
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোফাজ্জল হোসেন
এদিকে মনোনয়ন বাতিলের পর মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন,
“দৃঢ় বিশ্বাস ও ধৈর্য রাখুন। আল্লাহই সর্বোত্তম পরিকল্পনাকারী।”
তার সমর্থকদের দাবি, তিনি উচ্চ আদালত থেকে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী।