1. arshinagargroup75@gmail.com : ratul :
  2. abclimited2020@gmail.com : Eng. Firoz-Uz Zaman (MD) : Eng. Firoz-Uz Zaman (MD)
শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩১ পূর্বাহ্ন

‘খেলোয়াড়দের পক্ষে কথা না বললে সভাপতি থাকার মানে নেই’ ক্রিকবাজকে মিঠুন

স্পোর্টস ডেস্ক
  • Update Time : শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৯৪ Time View

বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে টানা দুই দিন ধরে উত্তাল ছিল দেশের ক্রিকেট অঙ্গন। ক্রিকেটারদের খেলা বর্জনের ঘোষণা, বিপিএল স্থগিত, এরপর বোর্ড ও ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)-এর মধ্যে সমঝোতা— শেষ ৪৮ ঘণ্টায় নাটকীয়তার কমতি ছিল না।

এই ঘটনার মাঝেই প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়েছেন কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন। পাশাপাশি তার ও কোয়াবের বিরুদ্ধে উঠেছে অভিযোগ,  তারা নাকি সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের ইন্ধনে পরিচালিত হচ্ছেন। এসব বিতর্ক, অভিযোগ ও হুমকি নিয়ে ক্রিকবাজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খোলামেলা কথা বলেছেন মিঠুন।

সাক্ষাৎকারে বোর্ডের সঙ্গে সমঝোতা প্রসঙ্গে মিঠুন বলেন,
“সবকিছু আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। তবে ক্রিকেটের স্বার্থে এবং খেলোয়াড়দের কথা ভেবে কিছু জায়গায় ছাড় দিতে হয়েছে। শুরুতে আমরা কঠোর অবস্থানে ছিলাম, সেটা অস্বীকার করছি না। কিন্তু যখন দেখলাম জেদ ধরে রাখলে খেলা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে, তখন সমঝোতার পথে যেতে হয়েছে।”

বোর্ডের প্রতিশ্রুতির ওপর আস্থা আছে কিনা— এমন প্রশ্নে কোয়াব সভাপতি বলেন,
“আমরা বিশ্বাস করতে চাই। না করলে সেটা খেলোয়াড়দের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হবে। বিপিএলের স্বার্থে দ্রুত সিদ্ধান্ত দরকার ছিল, তাই সবকিছু একসঙ্গে পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে আমরা শুধু বিপিএলের জন্য নয়, পুরো ক্রিকেটের জন্য কথা বলেছি।”

নাজমুল ইসলামের বিষয়ে বর্তমান অবস্থান জানতে চাইলে মিঠুন বলেন,
“বোর্ড জানিয়েছে, তারা নাজমুল ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছে না। তিনি ফোন ধরছেন না। তাকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। দুই দিনের মধ্যে জবাব না পেলে গঠিত কমিটি প্রক্রিয়া চালু করবে।”

ঢাকা প্রথম বিভাগ ক্রিকেট, নারী ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা ও বিপিএল ড্রাফট নিয়ে বিসিবির অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি জানান,
“বোর্ড এসব বিষয়ে আপত্তি করেনি। প্রথম বিভাগ ক্রিকেটের বিষয়টি ২৫ তারিখে নির্ধারিত আছে। অন্য বিষয়গুলোতেও দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস পাওয়া গেছে।”

প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে মিঠুন বলেন,
“হ্যাঁ, এটা সত্যি। জীবনে প্রথমবার এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছি। আমি কখন দেশের বিরুদ্ধে কথা বলেছি? শুধু ক্রিকেট ও খেলোয়াড়দের স্বার্থেই কথা বলেছি।”

এই হুমকিতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন কিনা— এমন প্রশ্নে তার স্পষ্ট উত্তর,
“আমি যদি খেলোয়াড়দের অধিকার নিয়ে কথা না বলি, তাহলে এই পদে থাকার মানে কী? কেউ দেশের ঊর্ধ্বে নয়।”

হুমকির বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা বোর্ডকে জানানো হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন,
“না, এখনো জানাইনি। অচেনা নম্বরের কল ধরছি না। হোয়াটসঅ্যাপে ভয়েস নোট বা মেসেজ বন্ধ করা যায় না। শুধু আমি নই, অন্য খেলোয়াড়রাও হুমকি পেয়েছেন বলে শুনেছি।”

কোয়াব নাকি তামিম ইকবালের দ্বারা পরিচালিত— এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে মিঠুন বলেন,
“এটা খুবই বিব্রতকর অভিযোগ। কোয়াব গঠনে অনেক সিনিয়র-জুনিয়র ক্রিকেটার ছিলেন। তামিম ভাই খেলোয়াড়দের স্বার্থে ভোট দিয়েছেন, সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন— এর বাইরে তার কোনো ভূমিকা নেই। সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তার নেই।”

কোয়াব খেলতে রাজি থাকলেও তামিমের কারণে খেলা বন্ধ হয়েছে— এমন অভিযোগ নাকচ করে মিঠুন বলেন,
“আমরা কখনোই ‘খেলব না’— এমন সিদ্ধান্ত নিইনি। অনেক খেলোয়াড় থাকলে মতভেদ থাকাই স্বাভাবিক। শেষ পর্যন্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ খেলোয়াড়দের সিদ্ধান্তকেই মানতে হয়।”

আসন্ন বিশ্বকাপ নিয়ে কোয়াবের অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন,
“আমরা খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা চাই। প্রাণনাশের হুমকির মধ্যে কেউ খেলুক— এটা চাই না। তবে বোর্ড ও সরকার খেলোয়াড়দের কল্যাণ বিবেচনায় সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে— এটাই আমাদের বিশ্বাস।”

বোর্ড আগেভাগে ভূমিকা নিলে পরিস্থিতি এড়ানো যেত কিনা— এমন প্রশ্নে মিঠুন বলেন,
“বোর্ড ভুল স্বীকার করেছে। ভবিষ্যতে আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে, তাহলে এমন পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব।”

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

More News Of This Category
© All rights reserved © arshinagar tv 2025
Design & Develop BY Coder Boss