ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, দেশটিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো পরিকল্পনা নেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর এই বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানাল তেহরান।
বুধবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, “ফাঁসি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনাই নেই। এটি সম্পূর্ণভাবে প্রশ্নের বাইরে।” তিনি দাবি করেন, বিক্ষোভ দমনে সরকার এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং দেশে আপাতত শান্ত অবস্থা বিরাজ করছে।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, তিনি “অন্য পক্ষের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র” থেকে আশ্বাস পেয়েছেন যে ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়েছে এবং সম্ভাব্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনাও স্থগিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যদিও সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কায় কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি থেকে কিছু মার্কিন ও ব্রিটিশ সেনা সদস্য প্রত্যাহার করা হয়েছে। এক ইরানি কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে প্রতিবেশী দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হানতে পারে তেহরান।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে ইরানের প্রতি তার বক্তব্যের কৌশলে কিছুটা নমনীয়তা দেখা যাচ্ছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় পরিসরের যুদ্ধে জড়ানোর বিষয়ে ট্রাম্প বরাবরই সতর্ক, তবে চাপ সৃষ্টি করতে সামরিক হুমকিকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করে থাকেন।
অন্যদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যেকোনো ‘ভুল হিসাবের’ জবাব দিতে তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আইআরজিসির কমান্ডার বলেন, দেশটি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ডিসেম্বর থেকে ইরানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও মুদ্রার দরপতনের প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলন ধীরে ধীরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়। মানবাধিকার সংস্থাগুলো ব্যাপক দমন-পীড়নের অভিযোগ তুললেও এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।