যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর কোনো ধরনের সামরিক হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালানো হবে—এমন কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এরই মধ্যে কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি আল-উদেইদ এয়ার বেস থেকে কিছু মার্কিন সেনাকে বুধবার সন্ধ্যার মধ্যে ঘাঁটি ত্যাগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত কয়েক দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানে হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়ে আসছেন, যদিও সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি বা পরিকল্পনা প্রকাশ করেননি। মঙ্গলবার সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানে আন্দোলনকারীদের ওপর যেভাবে দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে, তা যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই মেনে নেবে না।
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, আটক বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ট্রাম্প দাবি করেন, এর আগেও ইরান তাকে সতর্ক করেছিল এবং তিনি দেশটির পরমাণু সক্ষমতা ধ্বংস করে দিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইরানের ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায়, তবে যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলোই হবে ইরানের প্রধান লক্ষ্য। এ বিষয়ে মিত্রদেশগুলোকে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে রয়টার্সকে দেওয়া তথ্যে তিনজন কূটনীতিক জানান, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন বিমানঘাঁটি থেকে সীমিত সংখ্যক সেনা সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে গত বছর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগে যে মাত্রায় সেনা প্রত্যাহার হয়েছিল, এবার তেমন বড় ধরনের কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
কাতারে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে ইরানে এখন পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার ৬০০ জন নিহত হয়েছেন।