ইসরায়েলেরচল সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের পথে এখনো অগ্রসর হয়নি সৌদি আরব। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দেশটি তার আঞ্চলিক কূটনীতি নতুন করে মূল্যায়ন করছে বলে ইঙ্গিত মিলছে। যদিও স্বাভাবিকীকরণ পুরোপুরি বাতিল করার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি, তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ ধারাবাহিকভাবে জানিয়ে আসছে—স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাস্তব অগ্রগতি ছাড়া ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে না।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রিয়াদ আরও দৃঢ় কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েছে। গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের প্রকাশ্য সমালোচনা করেছে সৌদি আরব এবং এসব নীতিকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে অভিহিত করেছে। ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারকে শান্তি ও স্বাভাবিকীকরণের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখার দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে সৌদি নেতৃত্ব—যা দেশটির অভ্যন্তরীণ জনমত এবং বৃহত্তর আরব ঐকমত্যের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।
একই সময়ে, সৌদি আরব তুরস্ক, পাকিস্তান, কাতার, ইরানসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করছে। এসব যোগাযোগ কোনো ঘোষিত জোটের অংশ নয়; বরং অংশীদারিত্ব বৈচিত্র্যকরণ এবং সংলাপ, উত্তেজনা প্রশমন ও কৌশলগত সহযোগিতার মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদারের বৃহত্তর প্রচেষ্টার প্রতিফলন।
২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় পুনঃস্থাপিত সৌদি–ইরান সম্পর্ক ইয়েমেন ও উপসাগরীয় নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত ও বহিরাগত হস্তক্ষেপ কমাতে আরব কূটনৈতিক কাঠামোর মধ্যে সিরিয়াকে পুনঃসম্পৃক্ত করার উদ্যোগে সমর্থন দিচ্ছে রিয়াদ।
হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলেও সৌদি আরব কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। সোমালিয়ার সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগসহ মানবিক ও উন্নয়নমূলক সম্পৃক্ততা লোহিত সাগরের নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক রুটে সৌদি আগ্রহকে তুলে ধরে।
আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে—এমন একতরফা পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা ও সমষ্টিগত নিরাপত্তা কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাস্তববাদী সম্পর্ক বজায় রেখে ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্ভাবনার দরজা খোলা রাখলেও সৌদি আরব স্পষ্ট করেছে—বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের সঙ্গে স্বাভাবিকীকরণ সম্ভব নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের এই অবস্থান কোনো হঠাৎ নীতিগত পরিবর্তন নয়; বরং এটি একটি হিসেবি পুনঃসমন্বয়। আনুষ্ঠানিক জোট বা সংঘাতমুখী রাজনীতিতে না গিয়ে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষম একটি কেন্দ্রীয় আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে রিয়াদ।
এই মুহূর্তে সৌদি–ইসরায়েল স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়া স্থগিত রয়েছে। সৌদি আরব ইঙ্গিত দিয়েছে, ভবিষ্যতে কোনো পরিবর্তন এলে তা হবে বাস্তব রাজনৈতিক অগ্রগতির ভিত্তিতে—স্বল্পমেয়াদি কৌশলগত হিসাবের ওপর নয়।