অক্টোবরের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলা থামেনি। সর্বশেষ দক্ষিণ গাজার খান ইউনুসে ইসরায়েলি কোয়াডকপ্টার ড্রোন হামলায় তিন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই দিনে পৃথক ঘটনায় খান ইউনুসের পুলিশপ্রধান গুলিতে নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (স্থানীয় সময়) ইসরায়েলি একটি কোয়াডকপ্টার ড্রোন খান ইউনুসে হামলা চালায় বলে আল জাজিরাকে জানিয়েছেন গাজার বিভিন্ন সূত্র। এতে তিনজন নিহত হন। একই সঙ্গে আল-বাতন আল-সামিন এলাকায় ইসরায়েলি গুলিতে এক ফিলিস্তিনি নারী আহত হয়েছেন।
এই হামলার আগে দিনভর গাজার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ চালায় বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।
ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানায়, নিহত তিনজন হলেন— উইসাম আবদুল্লাহ সালেম আল-আমুর, মাহমুদ সুবহি ব্রেইকা ও আতেফ সামির আল-বায়ুক।
২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি অভিযানে ৭১ হাজার ৪০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি মানুষ। একই সঙ্গে গাজার বাড়িঘর, হাসপাতাল, স্কুলসহ বেসামরিক অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর ১০ থেকে কার্যকর যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলি হামলায় ৪৪০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ হাজার ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস বলছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে শুক্রবার পর্যন্ত কমপক্ষে ১ হাজার ১৯৩ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে ইসরায়েল।
এদিকে গাজার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, খান ইউনুসের পুলিশপ্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহমুদ আল-আস্তাল পশ্চিম খান ইউনুসের উপকূলীয় আল-মাওয়াসি এলাকায় একটি গাড়ি থেকে চালানো গুলিতে নিহত হন। হামলার পর গাড়িটি দ্রুত পালিয়ে যায়।
মন্ত্রণালয়ের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডে ‘দখলদার বাহিনীর এজেন্টরা’ জড়িত। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং হামলাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তারা ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত কোনো হামাসবিরোধী মিলিশিয়ার সদস্য হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
৪০ বছর বয়সী মাহমুদ আল-আস্তাল হত্যার দায় ইতোমধ্যে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সক্রিয় একটি মিলিশিয়া গোষ্ঠীর নেতা স্বীকার করেছে।
উল্লেখ্য, এর প্রায় এক মাস আগে মধ্য গাজার মাঘাজি শরণার্থী শিবিরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা আহমেদ জামজাম গুলিতে নিহত হন। সে সময় গাজার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ওই হত্যাকাণ্ডেও ইসরায়েলের সঙ্গে সহযোগীদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.