রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীতে ফাতেমা আক্তার নামে এক স্কুলছাত্রী হত্যার ঘটনায় মো. মিলন মল্লিক (২৬) নামের এক রেস্তোরাঁ কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন, তার সঙ্গে পালিয়ে যেতে রাজি না হওয়ায় ওই ছাত্রীকে হত্যা করেন তিনি।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) ভোরে বাগেরহাট সদর উপজেলার বড় সিংগা এলাকা থেকে মিলন মল্লিককে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে মিলন দাবি করেন, ফাতেমা আক্তারের সঙ্গে তার আগে থেকে পরিচয় ছিল এবং তিনি এটিকে প্রেমের সম্পর্ক বলে মনে করতেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সময় ভুক্তভোগী ইঙ্গিতপূর্ণ আচরণ করতেন এবং একপর্যায়ে পরিবারের লোকজন বাড়িতে না থাকলে তার সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন।
মিলনের দাবি, ঘটনার দিন দুপুর আনুমানিক ২টা ২৫ মিনিটে তিনি ফাতেমাকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। তবে ফাতেমা এতে রাজি হননি। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, একজন রেস্তোরাঁ মালিকের মেয়ে হয়ে তিনি কর্মচারীর সঙ্গে পালিয়ে যাবেন না। এ কথায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি ওই হত্যাকাণ্ড ঘটান বলে স্বীকার করেন অভিযুক্ত।
র্যাব জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনের সব তথ্য নিশ্চিত করতে তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
এর আগে শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে দক্ষিণ বনশ্রীর এল ব্লকের ‘প্রীতম ভিলা’ নামের একটি বাসা থেকে ফাতেমা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
পরে ওই বাসার সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনার সময় রেস্তোরাঁ কর্মী মিলন মল্লিককে ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা যায়। সেই সূত্র ধরেই তাকে শনাক্ত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নিহত ফাতেমা আক্তার বনশ্রীর রেডিয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে বাবা-মা, ভাই ও বোনের সঙ্গে ওই বাসায় বসবাস করত। তাদের গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায়। ফাতেমার বাবা সজীব মিয়া বনশ্রীতে একটি রেস্তোরাঁ পরিচালনা করেন, যেখানে অভিযুক্ত মিলন কাজ করতেন।