ক্রমবর্ধমান দেশজুড়ে বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দেশটির দুর্বল অর্থনীতি পুনর্গঠনের অঙ্গীকার করেছেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সরকার জনগণের কথা শুনতে প্রস্তুত এবং অর্থনৈতিক সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রোববার প্রচারিত ওই সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান তুলনামূলক শান্ত ও সমঝোতামূলক সুরে কথা বলেন। তবে একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন যে, তারা ইরানে অস্থিরতা ও সহিংসতা উসকে দিচ্ছে।
গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানের মুদ্রার বড় ধরনের অবমূল্যায়নের পর দেশটিতে জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায়। এর জেরে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ধীরে ধীরে রাজনৈতিক ও সরকারবিরোধী রূপ নেয়।
পেজেশকিয়ান বলেন, “মানুষের উদ্বেগ রয়েছে। আমাদের তাদের সঙ্গে বসতে হবে এবং দায়িত্ব থাকলে সেই উদ্বেগ দূর করতে হবে। তবে কোনো একটি গোষ্ঠী যেন সহিংসতার মাধ্যমে পুরো সমাজকে ধ্বংস করতে না পারে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ‘বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা সৃষ্টি’র উদ্দেশ্যে বিক্ষোভের কিছু অংশকে প্রভাবিত করছে এবং জনগণকে তথাকথিত ‘সহিংস ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।
এই বিক্ষোভগুলো ২০২২–২৩ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হওয়া আন্দোলনের পর সবচেয়ে বড় বলে মনে করা হচ্ছে। সে সময় নৈতিক পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, চলমান সহিংসতায় নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ১০৯ সদস্য নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো দাবি করেছে, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অন্তত ৫১ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও সশস্ত্র সহিংসতার মধ্যে পার্থক্য টেনে বলেন, সরকার অর্থনৈতিক দাবিতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে স্বীকৃতি দেয়, তবে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের’ বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে।
এ অবস্থায় দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় তথ্য আদান-প্রদান ও যোগাযোগে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইরান সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।