দক্ষিণ আফ্রিকার জলসীমায় যৌথ নৌ মহড়া শুরু করেছে চীন, রাশিয়া ও ইরান। শনিবার (১০ জানুয়ারি) শুরু হওয়া এই মহড়াকে স্বাগতিক দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা ‘ব্রিকস প্লাস’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে। দেশটির ভাষ্য অনুযায়ী, সামুদ্রিক পরিবহন ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই মহড়া আয়োজন করা হয়েছে।
‘ব্রিকস প্লাস’ মূলত ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা নিয়ে গঠিত ব্রিকস জোটের সম্প্রসারিত রূপ, যেখানে যুক্ত হয়েছে আরও ছয়টি দেশ। সদস্য রাষ্ট্রগুলো এই জোটকে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা অর্থনৈতিক প্রভাবের বিকল্প শক্তি হিসেবে দেখে থাকে।
যদিও দক্ষিণ আফ্রিকা নিয়মিতভাবে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে নৌ মহড়া চালায়, তবে এবারের আয়োজনটি এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে চীন, ইরান, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলসহ কয়েকটি ব্রিকস প্লাস দেশের সম্পর্ক বেশ উত্তপ্ত।
বর্তমানে সম্প্রসারিত ব্রিকস জোটের সদস্য দেশগুলো হলো— মিসর, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব, ইথিওপিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। চীনের সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই মহড়ায় ব্রাজিল, মিসর ও ইথিওপিয়া পর্যবেক্ষক হিসেবে অংশ নিচ্ছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘উইল ফর পিস ২০২৬’ নামের এই মহড়ার মাধ্যমে ব্রিকস প্লাসভুক্ত দেশগুলোর নৌবাহিনীর মধ্যে সমন্বয়, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সক্ষমতা বাড়ানোর অনুশীলন চালানো হচ্ছে।
যৌথ অভিযানের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ম্ফো মাতেবুলা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, ব্রিকস প্লাসের সব সদস্য দেশকেই এই মহড়ায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
এদিকে, ট্রাম্প আগেই ব্রিকস দেশগুলোকে ‘অ্যান্টি-আমেরিকান নীতি’ অনুসরণের অভিযোগ করেছিলেন। গত জানুয়ারিতে তিনি ব্রিকস সদস্যদের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ বাণিজ্য শুল্ক আরোপের হুমকিও দেন।
তবে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্ষমতাসীন জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স এই মহড়ার সমালোচনা করে বলেছে, এটি দেশের ঘোষিত নিরপেক্ষ অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং ব্রিকস দক্ষিণ আফ্রিকাকে আন্তর্জাতিক শক্তির খেলায় ‘দুষ্কৃতকারী রাষ্ট্রগুলোর হাতিয়ার’ বানিয়েছে।
এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে মাতেবুলা বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক আয়োজন নয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কোনো শত্রুতাও এতে নেই। তিনি জানান, দক্ষিণ আফ্রিকা নিয়মিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সঙ্গেও যৌথ মহড়া চালিয়ে থাকে। এই মহড়ার মূল উদ্দেশ্য সক্ষমতা বৃদ্ধি ও তথ্য আদান-প্রদান।