মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল তেল হস্তান্তর করবে। এই তেল আন্তর্জাতিক বাজারদরে বিক্রি করা হবে এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থের ব্যবহার তিনি নিজেই নিয়ন্ত্রণ করবেন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে ভেনেজুয়েলার যেসব তেল সংরক্ষণাগারে আটকে আছে, সেগুলো স্টোরেজ জাহাজের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে এনে সরাসরি আনলোডিং ডকে নামানো হবে।
তিনি জানান, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইটকে ‘তাৎক্ষণিকভাবে’ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
ট্রাম্পের ভাষায়,
“এই তেল বাজারদরে বিক্রি করা হবে এবং প্রাপ্ত অর্থ এমনভাবে ব্যবহার করা হবে, যাতে তা ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশের জনগণের উপকারে আসে।”
এই ঘোষণা আসে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পরপরই, যখন ট্রাম্প প্রশাসন দেশটির তেল শিল্প পুনর্গঠন ও ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদের ওপর প্রভাব বিস্তারের ইঙ্গিত দেয়। ট্রাম্প আগেই দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার ‘চুরি হওয়া’ তেল সম্পদ ফিরিয়ে নেবে—যদিও আন্তর্জাতিক আইনে যুক্তরাষ্ট্রের এমন কোনো মালিকানা দাবি নেই।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্ববাজারের প্রেক্ষাপটে ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল তেল খুব বড় যোগান নয়। বিশ্বে প্রতিদিন তেলের ব্যবহার ১০ কোটির বেশি ব্যারেল, আর যুক্তরাষ্ট্র একাই দৈনিক প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করে।
হিউস্টনের বেকার ইনস্টিটিউটের জ্বালানি বিশেষজ্ঞ মার্ক ফিনলি বলেন,
“৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল—কোন সময়সীমার মধ্যে দেওয়া হবে, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এক মাসে হলে তা ভেনেজুয়েলার মোট উৎপাদনের সমান, আর এক বছরে হলে এর প্রভাব তুলনামূলক কম।”
ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বালানি বিশ্লেষক স্কট মন্টগোমারি বলেন,
“তেল বিক্রির অর্থ কীভাবে বণ্টন করা হবে, তা স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রে এমন উদাহরণ খুব কম, যেখানে একটি দেশ অন্য দেশের তেলের আয় নিয়ন্ত্রণ করে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন ১৯৯০-এর দশকের মতো দৈনিক ৩০ লাখ ব্যারেলে ফিরিয়ে আনতে বিপুল বিনিয়োগ ও বহু বছর সময় লাগবে। নরওয়েভিভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান রিস্টাড এনার্জির হিসাব অনুযায়ী, দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেল উৎপাদনে ফিরতে ভেনেজুয়েলার প্রায় ১১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন।
বর্তমানে শেভরনই একমাত্র বড় মার্কিন তেল কোম্পানি, যারা ভেনেজুয়েলায় কার্যক্রম চালু রেখেছে এবং প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন করছে।
একসময় বিশ্বের শীর্ষ তেল উৎপাদকদের অন্যতম ভেনেজুয়েলা আজ উৎপাদনে বৈশ্বিক সরবরাহের এক শতাংশেরও কম অংশ জোগান দিচ্ছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও বিনিয়োগের অভাব দেশটির তেল খাতকে গভীর সংকটে ফেলেছে।