রাশিয়া থেকে তেল কেনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে সহযোগিতা না করলে ভারতের ওপর শুল্ক আরও বাড়ানো হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (স্থানীয় সময়) যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি ও ভারত–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, “তারা আমাকে খুশি করতে চেয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী মোদি খুব ভালো মানুষ। তিনি জানতেন, আমি খুশি নই। আমাকে খুশি করাটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তারা আমাদের সঙ্গে বাণিজ্য করে, আর চাইলে আমরা খুব দ্রুত তাদের ওপর শুল্ক বাড়াতে পারি।”
তিনি আরও জানান, তার প্রশাসন রাশিয়া থেকে তেল আমদানির বিষয়ে ভারতের কাছ থেকে আরও সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে। এই ইস্যুতেই যুক্তরাষ্ট্র–ভারত বাণিজ্য সম্পর্কে চাপ বাড়ছে বলে ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প।
#WATCH | On India’s Russian oil imports, US President Donald J Trump says, “… They wanted to make me happy, basically… PM Modi’s a very good man. He’s a good guy. He knew I was not happy. It was important to make me happy. They do trade, and we can raise tariffs on them very… pic.twitter.com/ANNdO36CZI
— ANI (@ANI) January 5, 2026
এর আগেও ট্রাম্প প্রশাসনের সময় ভারতের ওপর শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। ২০১৮ সালে ভারতীয় ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক বসায় যুক্তরাষ্ট্র। পরের বছর ২০১৯ সালে ভারতকে জেনারালাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্সেস (জিএসপি) সুবিধা থেকেও বাদ দেওয়া হয়, যার ফলে বহু ভারতীয় পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা হারায়।
২০২৫ সালে এসে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর আরও কড়া পদক্ষেপ নেয়। টেক্সটাইল, পোশাক, রত্ন ও গহনা, কার্পেট, আসবাবপত্র এবং সামুদ্রিক খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হয়। মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, রাশিয়া থেকে তেল ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনা অব্যাহত রাখায় ভারতকে এই অতিরিক্ত শুল্কের মুখে পড়তে হয়েছে।
বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, এই উচ্চ শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতীয় পণ্য প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবে না। এর ফলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতের পণ্য রপ্তানি ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এতে টেক্সটাইল, রত্ন ও গহনা, চিংড়ি এবং কার্পেট শিল্পে কয়েক লাখ কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বর্তমানে ভারতের মোট রপ্তানির প্রায় ৩০ শতাংশ—যার মধ্যে ওষুধ, ইলেকট্রনিক্স ও পেট্রোলিয়াম পণ্য রয়েছে—শুল্কমুক্ত রয়েছে। তবে মাত্র ৪ শতাংশ পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। বাকি অধিকাংশ রপ্তানি পণ্যের ওপর কার্যকর রয়েছে কঠোর ৫০ শতাংশ শুল্ক।