যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় ভেনেজুয়েলায় বেসামরিক নাগরিক ও সামরিক সদস্যসহ অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আটক ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ডেলসি রদ্রিগেজকে ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মাদুরো তাকে নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন। তার আটক হওয়ার পর কে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন এবং কী নীতিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে—তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এই অনিশ্চয়তার পেছনে মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যকে দায়ী করা হচ্ছে। ট্রাম্প দাবি করেন, মাদুরোর ঘনিষ্ঠ হলেও ডেলসি রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত অনুযায়ী দেশ পরিচালনায় সম্মত হয়েছেন। তিনি বলেন, “ভেনেজুয়েলায় একজন ভাইস প্রেসিডেন্ট আছেন, যাকে মাদুরো নিজেই নিয়োগ দিয়েছেন। এই মুহূর্তে আমার ধারণা, তিনিই প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে আছেন। মার্কো রুবিওর সঙ্গে তার দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যা চায়, সেটাই করবেন। বাস্তবিক অর্থে তার সামনে অন্য কোনো বিকল্প নেই।”
অন্যদিকে, ডেলসি রদ্রিগেজ এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “আমরা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করছি। ভেনেজুয়েলাকে রক্ষা করতে আমরা প্রস্তুত, আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করতেও প্রস্তুত। আমাদের দেশ, ইতিহাস ও ন্যায়বিচারের বিরুদ্ধে এই সশস্ত্র আগ্রাসনকে যারা উসকে দিয়েছে, তাদের এর মূল্য দিতে হবে। ভেনেজুয়েলার জনগণ কখনো দাস হবে না, কোনো সাম্রাজ্যের উপনিবেশও হবে না।”
এর আগে শনিবার স্থানীয় সময় মধ্যরাতে রাজধানী কারাকাসসহ ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বিমান হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। হামলায় আবাসিক ভবন, সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আগুন ধরে যায় বেশ কয়েকটি যানবাহনে।
তবে এখন পর্যন্ত এই হামলায় হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা কিংবা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে হোয়াইট হাউস বা পেন্টাগনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।