ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করতে পরিচালিত মার্কিন সামরিক অভিযানের পুরো দৃশ্য সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্লোরিডার মার-আ-লাগোতে একটি কক্ষে বসে তিনি স্ক্রিনের মাধ্যমে অভিযানটি পর্যবেক্ষণ করেন। হোয়াইট হাউস প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, সেখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আসা বার্তাগুলোর লাইভ ফিডও প্রদর্শিত হচ্ছিল। সিএনএন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে মাদুরোর বাসভবনে অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিজাত ডেল্টা ফোর্স। অভিযানের সময় স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের পাশে ঘুমাচ্ছিলেন মাদুরো। নিরাপদ কক্ষে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে দ্রুত আটক করা হয়। ধূসর ট্র্যাকসুট পরা, হাতকড়া লাগানো ও চোখে কালো গগলস পরা অবস্থায় তাকে যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে নেয়া হয়।
এই অভিযান ছিল কয়েক মাস ধরে পরিকল্পিত একটি সামরিক কার্যক্রমের চূড়ান্ত ধাপ। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানো। বড়দিনের কয়েক দিন আগে অভিযানের অনুমোদন দেন ট্রাম্প। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এক সপ্তাহের বেশি সময় অভিযান স্থগিত রাখতে হয়। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৪৬ মিনিটে চূড়ান্ত নির্দেশনা দেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন জানান, ‘অপারেশন অ্যাবসোলিউট রিজলভ’-এ অংশ নেয় প্রায় ১৫০টি বিমান এবং বিভিন্ন সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। একযোগে ২০টি ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে মার্কিন বিমান। ভেনেজুয়েলার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে নির্ভুল হামলা চালানো হয়। পাশাপাশি ব্যবহার করা হয় সাইবার যুদ্ধ কৌশল।
রাত আনুমানিক ২টার দিকে হেলিকপ্টারে করে অভিযাত্রী দল মাদুরোর কম্পাউন্ডে পৌঁছায়। সেখানে স্বল্প সময়ের গুলি বিনিময় হয়। একটি হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তা উড্ডয়ন সক্ষম ছিল। পরিস্থিতি বিবেচনায় মাদুরো ও তার স্ত্রী আত্মসমর্পণ করেন।
পরবর্তীতে তাদের ইউএসএস আইও জিমা নামের একটি যুদ্ধজাহাজে নেয়া হয়। জাহাজটি কিউবার গুয়ানতানামো বে নৌঘাঁটিতে যাত্রাবিরতি করে। সেখান থেকে বিমানযোগে নিউইয়র্কের স্টুয়ার্ট এয়ার ন্যাশনাল গার্ড বেসে আনা হয় মাদুরোকে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, মাদুরো এই পরিণতি এড়ানোর একাধিক সুযোগ পেয়েছিলেন, তবে সেগুলো তিনি গ্রহণ করেননি। অভিযানের পর কারাকাসের বহু এলাকায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে। রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যায়, দোকানপাট ও পেট্রল পাম্প বন্ধ ছিল।
অভিযান শেষে ট্রাম্প বলেন, তিনি পুরো ঘটনাটি ‘টেলিভিশনে দেখার মতো করে’ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র কতদিন ভেনেজুয়েলার প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবে, সে বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট বক্তব্য দেননি।