যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশেই দেশটির সামরিক স্থাপনাগুলোতে বিমান হামলা চালানো হয়েছে—এমন তথ্য জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা।
বিবিসির মার্কিন অংশীদার সিবিএস নিউজকে দেওয়া তথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানান, ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে সামরিক ঘাঁটিসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভোরে রাজধানী কারাকাসে বিস্ফোরণ ও বিমান চলাচলের খবর সম্পর্কে ট্রাম্প প্রশাসন অবগত ছিল বলেও জানানো হয়।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানায়, কারাকাস শহরে অন্তত সাতটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একই সঙ্গে নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া যুদ্ধবিমানের শব্দও শোনা যায়। বিস্ফোরণের পর শহরের দক্ষিণাঞ্চলের একটি বড় সামরিক ঘাঁটির আশপাশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও আতঙ্কজনক করে তোলে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করতে গত কয়েক মাস ধরে ভেনেজুয়েলার ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপ প্রয়োগ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের শেষ দিনে (৩১ ডিসেম্বর) দেশটির তেল খাতের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন। এই হামলার ঘটনা সেই চাপেরই নতুন বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে গত তিন মাস ধরে ক্যারিবীয় ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্ত নৌযানগুলোর ওপর একাধিক হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০টির বেশি নৌযানে হামলার অভিযোগ উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব নৌযানে মাদক পরিবহন করা হচ্ছিল। তবে এই দাবির পক্ষে এখনো কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো এসব হামলাকে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।