ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। দেশটির বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) উত্তর ইয়েমেন থেকে স্বাধীনতার লক্ষ্যে আগামী দুই বছরের মধ্যে গণভোট আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। এই ঘোষণার মধ্যেই সৌদি আরব সীমান্তবর্তী হাদরামাউত প্রদেশে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে এসটিসির রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়েছে।
শুক্রবার হাদরামাউত প্রদেশে সৌদি-সমর্থিত গভর্নরের অনুগত বাহিনীর সঙ্গে এসটিসির যোদ্ধাদের সংঘর্ষ হয়। এসটিসির অভিযোগ, সৌদি আরব তাদের অবস্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে। সংগঠনটির স্থানীয় নেতা মোহাম্মদ আবদুল মালিক জানান, আল-খাশা এলাকায় একটি সামরিক ঘাঁটিতে সাত দফা বিমান হামলায় অন্তত সাতজন নিহত এবং ২০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
তবে হাদরামাউতের গভর্নর সালেম আল-খানবাশি এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এসটিসির দখলে থাকা সামরিক ঘাঁটিগুলো শান্তিপূর্ণ ও পরিকল্পিতভাবে পুনর্দখলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি কোনো যুদ্ধ ঘোষণা নয়, বরং নিরাপত্তা নিশ্চিত ও বিশৃঙ্খলা ঠেকানোর জন্য নেওয়া প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ।
আল জাজিরার প্রতিবেদক জানিয়েছেন, সৌদি সীমান্তজুড়ে এসটিসির অবস্থানগুলোতে সংঘর্ষ চলছে, তবে এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না তারা এলাকা নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে কি না।
সংঘর্ষ শুরুর কয়েক ঘণ্টা পরই এসটিসির প্রধান আইদারোস আল-জুবাইদি টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে দুই বছরের একটি অন্তর্বর্তীকালীন সময় ঘোষণা করেন। এই সময়ের মধ্যেই দক্ষিণ ইয়েমেনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তুতি নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। একইসঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে উত্তর ও দক্ষিণ ইয়েমেনের মধ্যে সংলাপে মধ্যস্থতার আহ্বান জানান।
জুবাইদি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি সংলাপ ব্যর্থ হয় অথবা দক্ষিণ ইয়েমেন আবারও সামরিক হামলার শিকার হয়, তাহলে নির্ধারিত সময়ের আগেই স্বাধীনতা ঘোষণা করা হবে।
এই ঘোষণা ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও উত্তর ইয়েমেন নিয়ন্ত্রণকারী হুথি গোষ্ঠীর কাছে ‘লাল রেখা’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এটি গত ২৬ বছরের রাষ্ট্রীয় ঐক্য ভেঙে দেওয়ার শামিল।
এদিকে সৌদি আরব সব পক্ষকে নিয়ে একটি আলোচনাসভা আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে দক্ষিণ ইয়েমেন সংকটের একটি ন্যায্য ও সমন্বিত সমাধান খোঁজা যায়।
অন্যদিকে ইয়েমেন সরকার ও সৌদি আরব সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে এসটিসিকে অস্ত্র দিয়ে সহায়তার অভিযোগ তুলেছে। যদিও আমিরাত এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, তারা ইয়েমেন থেকে তাদের সব সেনা প্রত্যাহার করেছে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষেই রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ইয়েমেন আবারও নতুন করে বিভক্তি ও সহিংসতার দিকে এগোচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।