ভেনেজুয়েলা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে (ইউএনএসসি) অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র কেবল ভেনেজুয়েলাকেই নয়—পুরো লাতিন আমেরিকাকে নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে একটি বিস্তৃত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। দেশটির জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি স্যামুয়েল মনকাদা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান আগ্রাসনই সেই পরিকল্পনার প্রথম ধাপ।
মঙ্গলবার ইউএনএসসির বৈঠকে মনকাদা বলেন, “এটি শুধু ভেনেজুয়েলার বিষয় নয়, যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চাকাঙ্ক্ষা মহাদেশজুড়ে। তাদের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলেই বলা আছে—এই মহাদেশের ভবিষ্যৎ তাদের।”
তিনি আরও বলেন, ভেনেজুয়েলাকে আলাদা করে দুর্বল করা হচ্ছে, যেন একে একে পুরো অঞ্চলকে দখলে নেওয়া যায়। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা ও নৌ অবরোধকে তিনি “অঘোষিত যুদ্ধ” হিসেবে উল্লেখ করেন।
চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সম্পৃক্ত জাহাজে মার্কিন বিমান হামলা শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, এসব জাহাজ মাদক পাচারে জড়িত—তবে এর পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। এসব অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০৫ জন নিহত হয়েছেন।
মনকাদা অভিযোগ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই সামরিক পদক্ষেপ নিচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক আইন ও যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব আইন—উভয়েরই লঙ্ঘন। তিনি বলেন, সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার তেলবাহী জাহাজে আরোপিত নৌ অবরোধ কার্যত একটি সামরিক অবরোধ, যার লক্ষ্য পুরো দেশকে অবরুদ্ধ করা।
“আজ মুখোশ খুলে গেছে,” বলেন মনকাদা। “এটা মাদক বা নিরাপত্তা নয়—এটা তেল, খনিজ সম্পদ আর ভূমির জন্য লড়াই।”
যুক্তরাষ্ট্রের জাতিসংঘ প্রতিনিধি মাইক ওয়াল্টজ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, লাতিন আমেরিকার মাদক কার্টেলগুলো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। তার দাবি, ভেনেজুয়েলার তেল থেকেই প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকার ও কার্টেলগুলো অর্থায়ন পাচ্ছে।
এদিকে ভেনেজুয়েলা জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী অন্তত দুইটি তেল ট্যাংকার জব্দ করে প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল দখল করেছে—যাকে তারা “সামরিক শক্তি দিয়ে ডাকাতি” বলে অভিহিত করেছে।
রাশিয়া সতর্ক করে বলেছে, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হস্তক্ষেপ ভবিষ্যতে অন্যান্য লাতিন আমেরিকান দেশের বিরুদ্ধেও শক্তি প্রয়োগের দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।
চীনও যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি বলে মন্তব্য করেছে।