গাজা উপত্যকায় তীব্র শীত, টানা বৃষ্টি এবং পর্যাপ্ত আশ্রয় ও মানবিক সহায়তার অভাবে একের পর এক শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের প্রতি অবিলম্বে সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স (MSF)।
এমএসএফ জানিয়েছে, চলমান শীতকালীন ঝড় ও ভয়াবহ মানবিক সংকট মিলিয়ে শিশুদের জন্য পরিস্থিতি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সংস্থাটির তথ্যমতে, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে মাত্র ২৯ দিন বয়সী এক অপরিণত নবজাতক তীব্র হাইপোথার্মিয়ায় মারা গেছে। এছাড়া এক সপ্তাহের ব্যবধানে আরও একটি দুই সপ্তাহ বয়সী শিশুর মৃত্যু হয়েছে শীত ও পর্যাপ্ত আশ্রয়ের অভাবে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন শীতজনিত কারণে প্রাণ হারিয়েছে, যাদের মধ্যে একাধিক নবজাতক রয়েছে।
খান ইউনিসের নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সের মাতৃ ও শিশু বিভাগপ্রধান ডা. আহমেদ আল-ফাররা বলেন,
“শিশুদের জন্য হাইপোথার্মিয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। যদি তাঁবুতে থাকা পরিবারগুলোর জন্য উষ্ণতা, নিরাপদ আশ্রয় বা মোবাইল হোমের ব্যবস্থা না করা হয়, তাহলে সামনে আরও শিশু মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে।”
এমএসএফ-এর নার্সিং টিম সুপারভাইজার বিলাল আবু সাদা জানান,
“শিশুরা হাসপাতালে আসছে শরীর বরফের মতো ঠান্ডা অবস্থায়, প্রায় মৃত্যুপথযাত্রী হয়ে। বেঁচে থাকার ন্যূনতম প্রয়োজনীয় জিনিস না থাকায় তারা প্রাণ হারাচ্ছে।”
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, গাজাজুড়ে শিশুদের মধ্যে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে, যা পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। ভারী বৃষ্টি ও ঝড়ে ৫৩ হাজারের বেশি তাঁবু ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। বহু পরিবার ভাঙাচোরা ভবনের ধ্বংসস্তূপে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে, যেখানে ধসের ঝুঁকি রয়েছে।
এদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরায়েলি হামলা পুরোপুরি থামেনি। গাজা শহর ও খান ইউনিসের বিভিন্ন এলাকায় গোলাবর্ষণ ও গুলির শব্দ শোনা গেছে। শুক্রবার বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, ইসরায়েল এখনও তাঁবু, কম্বল ও জরুরি সামগ্রী প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। ফলে প্রায় ৫৫ হাজার পরিবার শীতের ঝড়ে সবকিছু হারিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিশুদের জন্য তৈরি ডজনখানেক নিরাপদ স্থান, যার প্রভাব পড়েছে প্রায় ৩০ হাজার শিশুর ওপর।
এমএসএফ ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে,
“গাজার মানুষের জীবন বাঁচাতে অবিলম্বে এবং ব্যাপক পরিসরে মানবিক সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে।”