পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে দুর্নীতি সংক্রান্ত একটি মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। রাষ্ট্রীয় উপহার অবৈধভাবে রেখে বিক্রি করে লাভবান হওয়ার অভিযোগে শনিবার এই রায় ঘোষণা করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রতিনিধিদের কাছ থেকে পাওয়া মূল্যবান উপহার—বিশেষ করে সৌদি সরকারের দেওয়া গয়নাসহ নানা সামগ্রী—বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম দামে দেখিয়ে নিজেদের কাছে রেখে পরে সেগুলো বিক্রি করে লাভ করেন ইমরান খান দম্পতি। পাকিস্তানের আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় উপহার ব্যক্তিগতভাবে রাখতে চাইলে তা বাজারমূল্যে কিনতে হয় এবং বিক্রির ক্ষেত্রে লাভের হিসাব রাষ্ট্রকে জানানো বাধ্যতামূলক।
রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, উপহারগুলোর প্রকৃত বাজারমূল্য ছিল প্রায় ২ লাখ ৮৫ হাজার মার্কিন ডলার, অথচ সেগুলো মাত্র ১০ হাজার ডলারে মূল্যায়ন করে রাখা হয়েছিল। তবে ইমরান খান ও বুশরা বিবি শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
রায়ের পর ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) একে ‘প্রহসনমূলক বিচার’ বলে আখ্যা দিয়েছে। দলের মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি বলেন, কোনো ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত লাভ বা ক্ষতির প্রমাণ ছাড়াই দণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা আইনের অপব্যবহার।
২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ইমরান খান। ২০২২ সালের এপ্রিলে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে তিনি কারাবন্দি রয়েছেন। কিছু মামলায় তিনি খালাস পেলেও একাধিক অভিযোগে এখনও বন্দিদশায় রয়েছেন তিনি।
বিশ্বখ্যাত সাবেক ক্রিকেট তারকা ইমরান খান এখনও পাকিস্তানে ব্যাপক জনপ্রিয়। তার কারাবাসকে কেন্দ্র করে গত দুই বছরে দেশজুড়ে একাধিকবার বিক্ষোভ হয়েছে। বর্তমানে তিনি রাওয়ালপিন্ডির একটি কারাগারে কঠোর নজরদারিতে রয়েছেন। সম্প্রতি তার বোন উজমা খানুম জানান, দীর্ঘদিন একাকী বন্দি থাকায় তিনি মানসিকভাবে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ও বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন।