ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের মধ্যে গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে—এমন তথ্য প্রকাশ করেছে ইসরাইলের পাবলিক ব্রডকাস্টার কেএএন নিউজ। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে গাজা উপত্যকার ভবিষ্যৎ প্রশাসন ও সম্ভাব্য ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) শাসনব্যবস্থা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।
যদিও নেতানিয়াহুর কার্যালয় বৈঠকের বিষয়বস্তু নিয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, পরিচিত সূত্রগুলো কেএএনকে জানায় যে টনি ব্লেয়ার অঞ্চলটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো নিয়ে সক্রিয়ভাবে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছেন।
সূত্র অনুযায়ী, ব্লেয়ার একাধারে নেতানিয়াহু ও আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছেন। আলোচনায় গাজার কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় পিএকে সীমিত নিয়ন্ত্রণ দেওয়ার একটি সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে কথা হয়েছে। এটি প্রাথমিকভাবে পাইলট স্কিম হিসেবে চালু হতে পারে; সফল হলে ভবিষ্যতে স্থায়ী কাঠামোতে রূপ নিতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
দ্য জেরুজালেম পোস্ট জানায়, এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজার যুদ্ধ-পরবর্তী প্রশাসনের নেতৃত্ব নেওয়ার প্রস্তাব টনি ব্লেয়ারকে দেন। কিন্তু ৭ নভেম্বর ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তাদের দাবি, এই ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হলে গাজা আবারও ব্রিটিশ ম্যান্ডেট যুগের মত পশ্চিমা নিয়ন্ত্রণের অধীনে চলে যাবে।
২৩ নভেম্বর ব্লেয়ার ফিলিস্তিনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হুসেইন আল-শেখের সঙ্গে বৈঠক করেন। আলোচনায় গাজার যুদ্ধোত্তর পরিস্থিতি, পশ্চিম তীরের রাজনৈতিক অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠন প্রসঙ্গ উঠে আসে। আল-শেখ তার এক্স পোস্টে এসব বৈঠকের তথ্য নিশ্চিত করেন।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলের হামলায় গাজায় ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের বড় একটি অংশ নারী ও শিশু। আরও ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন—যা এখনো চলছে সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়গুলোর একটি।