গাজায় ভয়াবহ মানবিক সংকটের মধ্যেই ইসরায়েলি এক বন্দির মৃতদেহ ফেরত দিয়েছে ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস। আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের মাধ্যমে বুধবার (৫ নভেম্বর) মৃতদেহটি ইসরায়েলের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়।
এতে গাজায় এখনও ছয়জন ইসরায়েলি বন্দির মৃতদেহ রয়ে গেছে বলে জানানো হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাতে হামাস জানায়, গাজার ভয়াবহ ধ্বংসস্তূপ ও ইসরায়েলের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কারণে বন্দিদের দেহ উদ্ধার কার্যক্রমে ব্যাপক জটিলতা দেখা দিয়েছে।
আল জাজিরা’র সাংবাদিক নুর ওদেহ জানান, ফেরত দেওয়া দেহটি গাজার শুজাইয়া এলাকায় টানা চারদিন ধরে ধ্বংসস্তূপ খুঁড়ে উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, উদ্ধার অভিযানে একটি মিশরীয় বিশেষজ্ঞ দলও অংশ নেয়।
ইসরায়েল বলছে, হামাস যুদ্ধবিরতির চুক্তি ভঙ্গ করেছে—কারণ তারা এখনও সব বন্দির দেহ ফেরত দেয়নি।
অন্যদিকে হামাসের দাবি, ইসরায়েল নিজেই ভারী যন্ত্রপাতি প্রবেশে বাধা দিচ্ছে, যা উদ্ধার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করছে।
এ বিষয়ে ওদেহ জানান,
“ইসরায়েল স্পষ্ট করে দিয়েছে, যতক্ষণ না সব দেহ ফেরত দেওয়া হয়, ততক্ষণ তারা যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের শর্ত—মানবিক সহায়তার অবাধ প্রবেশ—বাস্তবায়ন করবে না।”
জাতিসংঘ সতর্ক করেছে, যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় সহায়তার পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP)-এর মুখপাত্র আবির এতেফা বলেন,
“আমাদের পূর্ণ প্রবেশাধিকার দরকার। সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে। শীত আসছে, মানুষ ক্ষুধার্ত, প্রয়োজন ভয়াবহ।”
গাজা কর্তৃপক্ষ জানায়, যুদ্ধবিরতির পর অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ১৪৫টি ট্রাক সাহায্য নিয়ে প্রবেশ করেছে, যা চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ৬০০ ট্রাকের মাত্র ২৪ শতাংশ।
নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল জানিয়েছে, ইসরায়েল এখন পর্যন্ত ২৩টি মানবিক সংস্থার আশ্রয়সামগ্রী আনতে দেওয়া অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে, যার মধ্যে তাঁবু ও কম্বলও রয়েছে।
সংস্থাটির আঞ্চলিক পরিচালক আঞ্জেলিতা ক্যারেডা বলেন,
“শীতের আগে পরিবারগুলোকে রক্ষার সময় খুব সীমিত। এখনই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে হস্তক্ষেপ করতে হবে।”
গাজার বহু মানুষ, যাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে, এখন আশ্রয় ও খাবারের জন্য স্থানীয় কমিউনিটি কিচেনে নির্ভর করছে।
৫৫ বছর বয়সী আবদেল মাজিদ আল-জাইতি, যিনি শাতি শরণার্থী শিবির থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে খান ইউনিসে আছেন, বলেন—
“আমাদের কোনো সম্পদ নেই, কোনো কাজ নেই। এই সুপ কিচেন না থাকলে আমরা খেতে পারতাম না। এগুলোর কারণেই আমরা বেঁচে আছি।”
আরেক বাস্তুচ্যুত নারী হিন্দ হিজাজি (৪৩) বলেন,
“প্রতিদিন আমি এখানে আসি শুধু সন্তানদের মুখে খাবার দিতে। তারা বলে যুদ্ধবিরতি চলছে, কিন্তু এটা এক ভুয়া যুদ্ধবিরতি—কারণ অবরোধ এখনো জারি আছে।”