আজ ২৬ মার্চ, আমাদের মহান স্বাধীনতা দিবস। এটি এমন একটি দিন, যা সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে আমাদের দেশ, সমাজ, ও ব্যক্তিগত জীবনে অমূল্য উপহার হিসেবে এসেছে। স্বাধীনতা অর্জনে আমাদের জাতি যে ত্যাগ স্বীকার করেছে, তার ইতিহাস কখনও ভুলে যাওয়ার নয়। লাখ লাখ তরুণের তাজা রক্ত দিয়ে আমাদের মাতৃভূমি বাংলাকে পরাধীনতার কবল থেকে মুক্ত করা হয়েছে।
ইসলামে দেশপ্রেম ও স্বাধীনতার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। আল্লাহপাক কখনো পরাধীনতা পছন্দ করেন না। যেখানে স্বাধীনতা নেই, সেখানে ধর্মের অস্তিত্বও সঠিকভাবে বিকশিত হতে পারে না। ইসলামের দৃষ্টিতে, সব ধরনের দাসত্ব ও পরাধীনতা থেকে মুক্তি পাওয়া হলো মূল উদ্দেশ্য। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর জীবনে এই স্বাধীনতার গুরুত্ব সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে, যখন তিনি মক্কা থেকে মদিনা হিজরত করে মক্কাকে স্বাধীন করেছিলেন।
ইসলামের ইতিহাসের আলোকে দেখা যায়,
পৃথিবীতে যত নবী এসেছেন, তারা সবাই জাতি ও দেশের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছেন। বিশ্বনবী (সা.) মানুষকে শুধু বাহ্যিক দাসত্ব থেকে মুক্তি দেননি, তিনি সমাজের প্রতিটি স্তরের মধ্যে স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেছেন।
তবে, এটি দুঃখজনক যে, অনেক জাতি স্বাধীনতার প্রকৃত মূল্যে চেতনাশূন্য হয়ে গেছে এবং শাসকের দাসত্বকে আল্লাহর শাসনের প্রতি প্রাধান্য দিয়েছে। এর ফলে তারা শুধুমাত্র নিজেদের স্বাধীনতা হারায়নি, বরং তাদের ধর্মীয় ও দুনিয়াবী অবস্থানও বিপদগ্রস্ত হয়েছে।
আল্লাহপাক মানুষকে স্বাধীনতার মাধ্যমে সৃষ্টি করেছেন। প্রত্যেক মানুষ মাতৃগর্ভ থেকে স্বাধীনভাবে জন্মগ্রহণ করে এবং আল্লাহ তাকে স্বাধীনতা, বিবেক এবং বিশ্বাসের অধিকার প্রদান করেছেন।
কোরআনের (সুরা ইউনুস, আয়াত: ৯৯) তে আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, “তোমার প্রভু ইচ্ছা করলে পৃথিবীতে যারা আছে তারা সবাই একসাথে ঈমান আনতে পারত। তবে তুমি কি মানুষকে বিশ্বাসী করার জন্য বলপূর্বক চাপ সৃষ্টি করবে?” এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, আল্লাহ চান মানুষ স্বাধীনভাবে ঈমান আনুক।
ইসলামে, ধর্মের ব্যাপারে কোনো ধরনের জবরদস্তি বা বাধ্যবাধকতা নেই, এবং (সুরা আল বাকারা, আয়াত: ২৫৬) তে ঘোষণা করা হয়েছে, “ধর্মে কোনো জবরদস্তি নেই।” এই নির্দেশনা স্বতঃসিদ্ধভাবে প্রমাণ করে যে, ইসলাম স্বাধীনতাকে সর্বোচ্চ মর্যাদা প্রদান করেছে।
স্বাধীনতা শুধু ব্যক্তিগত ক্ষেত্রেই নয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ইসলামের গুরুত্ব বহন করে। হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর সাহাবাদের সাথে দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও দেশপ্রেমের এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি শুধু দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করলেন না, বরং দেশের সম্পদ, ধর্ম এবং সকল সম্প্রদায়ের প্রতি সমবেদনা ও শ্রদ্ধা দেখিয়েছেন।আজকের দিনে, আমাদের সকলের দায়িত্ব হচ্ছে, দেশের প্রতি ভালোবাসা
ও শ্রদ্ধা বৃদ্ধি করা এবং একত্রে উন্নত ও সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ে তোলা। আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে সেই তৌফিক দান করুন। আমিন।
Leave a Reply