চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও কাল্পনিক বলে দাবি করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, পুরোনো ছবি ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
প্রতিমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের নিয়ে তিনি সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করেছেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেও তিনি দাবি করেন, প্রচারিত খবরের সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। বরং নাগরিকরা জানিয়েছেন, আগের তুলনায় জলাবদ্ধতা অনেকটাই কমেছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী খবরের ভিত্তিতে দুঃখ প্রকাশ করলেও নগরবাসী সেটিকে ইতিবাচকভাবে নিয়েছে এবং এতে তারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।
চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান প্রকল্পের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, মোট ৫৭টি খালের মধ্যে ৩৬টি খালের কাজ প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৩০টি খালের কাজ শেষ হয়েছে এবং বাকি ৬টির কাজ চলমান রয়েছে।
তবে কিছু স্থানে খালের কাজে অস্থায়ী বাঁধ দেওয়ার কারণে এবং হঠাৎ ২২০ মিলিমিটার অতিবৃষ্টির ফলে প্রবর্তনা মোড়সহ কয়েকটি এলাকায় সাময়িক পানি জমে ছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি স্থায়ী জলাবদ্ধতা নয়; বরং ৩ থেকে ৪ ঘণ্টার মধ্যেই সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর যৌথ প্রচেষ্টায় পানি অপসারণ করা হয়েছে।
ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় মেয়রের নেতৃত্বে একটি সমন্বিত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি চলমান খালের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে দ্রুত বাঁধ অপসারণ করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সবশেষে প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে চট্টগ্রামে উল্লেখযোগ্য জলাবদ্ধতার আশঙ্কা নেই।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.