ইরানে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় পাইলটকে প্রায় ৪৮ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযানে উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে এবং সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে।
ইরানে ভূপাতিত একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করেছে মার্কিন বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার ভোরে জানান, প্রায় দুই দিন ধরে নিখোঁজ থাকা ওই মার্কিন সেনাকে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্ধার অভিযানটি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং নাটকীয়। অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আমিন সাইকাল বলেন, “শত্রু অঞ্চলে কোনো সেনাকে ফেলে না আসা—এটি মার্কিন সামরিক নীতির একটি বড় পরীক্ষা ছিল।”
ঘটনার সূত্রপাত হয় শুক্রবার, যখন দক্ষিণ ইরানের আকাশে উড়তে থাকা এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হয়। এতে থাকা দুই ক্রুর মধ্যে একজনকে দ্রুত উদ্ধার করা হলেও দ্বিতীয়জন নিখোঁজ ছিলেন। তাকে খুঁজে পেতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—উভয় পক্ষই অভিযান শুরু করে।
ইরান দাবি করে, তাদের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে বিমানটি ভূপাতিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তারা জনগণকে নিখোঁজ মার্কিন সেনাকে খুঁজে বের করে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের আহ্বান জানায় এবং পুরস্কার ঘোষণাও করে।
এদিকে উদ্ধার অভিযানে মার্কিন বাহিনী বিশেষ কমান্ডো ইউনিট, যুদ্ধবিমান এবং হেলিকপ্টার ব্যবহার করে। অন্তত একটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার হামলার মুখে পড়লেও সেটি উড্ডয়ন চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, ইরানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আটকে পড়া ওই সেনাকে উদ্ধারে ডজনখানেক সশস্ত্র বিমান মোতায়েন করা হয়। তিনি এটিকে “মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম দুঃসাহসিক উদ্ধার অভিযান” হিসেবে উল্লেখ করেন।
অভিযান চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র গোলাগুলির ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী রাতের আঁধারে অভিযান চালানোর কথা থাকলেও সংঘর্ষের কারণে তা দিনের আলো পর্যন্ত গড়ায়, যা ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তোলে।
অবশেষে আহত অবস্থায় ওই পাইলটকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়। ট্রাম্প বলেন, তিনি “শিগগিরই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠবেন।”
অন্যদিকে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী দাবি করেছে, উদ্ধার অভিযানের সময় তারা দুটি সি-১৩০ বিমান ও দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ধ্বংস করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এসব দাবির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
বর্তমান সংঘাতে ইতোমধ্যে হাজারো প্রাণহানি ঘটেছে এবং পরিস্থিতি আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই উদ্ধার অভিযান একদিকে যেমন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত সাফল্য, অন্যদিকে এটি উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.