অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি হুবহু জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া কিছু অধ্যাদেশ সংশোধন, পুনঃযাচাই এবং বাতিলের সুপারিশ করেছে সংসদের বিশেষ কমিটি।বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ১৩ সদস্যের বিশেষ কমিটির পক্ষ থেকে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি হুবহু বিল আকারে সংসদে উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে উপস্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ১৬টি অধ্যাদেশ এখনই বিল হিসেবে উত্থাপন না করে পরবর্তীতে আরও যাচাই-বাছাই করে শক্তিশালী করে নতুনভাবে সংসদে আনার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া ৪টি অধ্যাদেশ বাতিল ও হেফাজতের জন্য বিল আকারে উত্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিশেষ কমিটির সদস্যদের মধ্যে ছিলেন মির্জা আব্বাস, সালাহউদ্দিন আহমদ, নূরুল ইসলাম, আসাদুজ্জামান, ওসমান ফারুক, মাহবুব উদ্দিন, আব্দুল বারী, নওশাদ জমির, ফারজানা শারমীন, মুজিবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম খান এবং জি এম নজরুল ইসলাম।
তবে ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ২০টি সংসদে উত্থাপন না করার সিদ্ধান্তে বিরোধীদলের তিন সদস্য—মুজিবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম খান ও জি এম নজরুল ইসলাম—নোট অব ডিসেন্ট প্রদান করেছেন।
যে ১৬টি অধ্যাদেশ এখনই বিল আকারে আনা হচ্ছে না, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫, রাজস্ব নীতি ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত একাধিক অধ্যাদেশ, আয়কর ও কাস্টমস সংশোধন, গুম প্রতিরোধ আইন, দুর্নীতি দমন কমিশন সংশোধন, বেসামরিক বিমান চলাচল সংশোধনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন আইন।
এছাড়া ৪টি অধ্যাদেশ—জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান), সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় এবং এর সংশোধনী—বাতিল ও হেফাজতের জন্য সংসদে বিল আকারে উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।
সংসদের বিশেষ কমিটির এই প্রতিবেদন দেশের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.