বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি দাবি করেছে, এবারের ঈদযাত্রায় ঢাকার বিভিন্ন গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় চলছে, যার পরিমাণ ৮৩২ কোটি ৩০ লাখ টাকা। আজ বুধবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত ঈদযাত্রা, ঈদ বাজার, ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় যাতায়াতে সড়ক, রেল, নৌ এবং আকাশপথে ২২ কোটি ৭৪ লাখ ৯০ হাজার ট্রিপ মানুষের যাতায়াত হতে পারে। এই যাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের মাধ্যমে ৮৩২ কোটি ৩০ লাখ টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুসারে,
এবারের ঈদে ঢাকা থেকে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ মানুষ গ্রামের বাড়ি যাবে। এ ছাড়া ঈদ বাজার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজে বাড়তি ট্রিপের সংখ্যা বাড়বে, যার ফলে একমাত্র ঢাকা থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের পরিমাণ ৮৩২ কোটি ৩০ লাখ টাকা হতে পারে।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির গণপরিবহন পর্যবেক্ষণ উপ-কমিটির সদস্যরা ২০ মার্চ থেকে ঢাকা মহানগরীতে ঈদযাত্রার পরিস্থিতি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং যাত্রী সেবার সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে এই তথ্য সংগ্রহ করেন।
সংগঠনের প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারিভাবে বাস, লঞ্চ এবং অন্যান্য গণপরিবহনের ভাড়া নির্ধারণ করা হলেও তা বাস্তবে কার্যকর হচ্ছে না। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা ঈদের বোনাসসহ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন, যা যাত্রীদের জন্য বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এছাড়া, ঢাকার সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ঈদকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ঈদে কেনাকাটা এবং বিভিন্ন টার্মিনালে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতি যাত্রী গড়ে ২০০ টাকা বাড়তি ভাড়া দিতে বাধ্য হচ্ছেন। মোট ২০ হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশায় প্রায় ৩০ লাখ ট্রিপের মাধ্যমে ৬০ কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত ভাড়া আদায় হতে পারে।
প্রতিবেদনটি আরও জানায়, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং নৈরাজ্যের কারণে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, চাঁদাবাজি, সামাজিক অস্থিরতা, অনিয়ম এবং দুর্ঘটনা বাড়ছে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষ এর ফলে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়ছে।
এছাড়া, আকাশপথে সরকারি এবং বেসরকারি উড়োজাহাজে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রক্রিয়া চলছে, যেখানে কিছু রুটে দ্বিগুণ বা তিনগুণ বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে, অভ্যন্তরীণ রুটে ১ লাখ যাত্রী গড়ে ৩৫০০ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া গুনছেন, যার ফলে ৩৫ কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায় হচ্ছে।
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি গণপরিবহনে ডিজিটাল ভাড়া আদায়, নগদ টাকার লেনদেন বন্ধ, সড়ক মহাসড়কে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সুপারিশ করেছে।
Leave a Reply