ইরান তার নতুন ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি উন্মোচন করেছে, যা সামরিক বিশ্লেষকরা ‘ক্ষেপণাস্ত্র শহর’ হিসেবে বর্ণনা করছেন। মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্স এই ঘাঁটি প্রদর্শন করে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকির প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে,
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ হোসেইন বাঘেরি এবং আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার আমির আলী হাজিজাদেহ একটি সামরিক গাড়িতে করে একটি দীর্ঘ সুড়ঙ্গের মধ্য দিয়ে টহল দিতে দেখা যায়। এই ভিডিওটি ইরানকে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকার এবং আক্রমণের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালানোর সক্ষমতা রয়েছে, এমন বার্তা প্রদান করছে।
ঘাঁটিতে হাজার হাজার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি পাভেহ ল্যান্ড অ্যাটাক ক্রুজ মিসাইলও রয়েছে। এর মধ্যে খায়বার শেকান, কদর-এইচএস, সিজ্জিল, ইমাদ এবং হাজ কাসেমসহ অনেক অস্ত্র রয়েছে, যেগুলোর মধ্যে কিছু অস্ত্র ইরান ইতোমধ্যে গত বছর ইসরাইলের বিরুদ্ধে ব্যবহারের দাবি করেছে।
এটি ইরানের চতুর্থ ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি উন্মোচন, তবে দেশটির দাবি, তাদের শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে, আইআরজিসি একটি ভূগর্ভস্থ
ক্ষেপণাস্ত্র শহর’ উন্মোচন করেছিল, এবং এর কিছুদিন পর ১৮ জানুয়ারি, পারস্য উপসাগরে একটি অজ্ঞাত স্থানে আইআরজিসি নৌবাহিনী ভূগর্ভস্থ একটি নৌ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি প্রদর্শন করে। এরপর ১ ফেব্রুয়ারি আরও একটি ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি উন্মোচন করে নৌবাহিনী।
ইরান এমন সময় এই নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি উন্মোচন করল যখন আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। ইরানের সামরিক নেতারা স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তারা যেকোনো ধরনের আক্রমণ প্রতিহত করতে সক্ষম এবং প্রয়োজনে পাল্টা আক্রমণ চালাতে প্রস্তুত।
এই ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো ইরানের সামরিক কৌশল এবং অস্ত্র নির্মাণে শক্তির এক নতুন দিক উন্মোচন করছে, যা বিশ্বের ক্ষমতাশালী দেশগুলোর জন্য একটি স্পষ্ট সংকেত।
Leave a Reply