শেষ পর্যন্ত স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে সক্ষম হলেন সাকিব আল হাসান, কারণ ইংল্যান্ডে তৃতীয় পুনর্মূল্যায়ন পরীক্ষায় সফল হয়ে তার বোলিং অ্যাকশন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। গত ছয় মাস ধরে নানা দুশ্চিন্তা ও জটিলতার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল তাকে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলে তাকে অন্তর্ভুক্ত না করায় সাকিব, বিশেষ করে ব্যাটিং পারফরম্যান্সের কারণে, হতাশ হয়েছেন। তবে তিনি মনে করেন, পুরো পরিস্থিতি আরও ভালোভাবে মোকাবিলা করা যেতে পারত।
ক্রিকবাজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, “আমার কোনো অভিযোগ নেই, তবে যদি যোগাযোগটা আরও ভালো হতো, তাহলে আমি আরও খুশি হতাম।”
সাকিবের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি চেয়েছিলেন বোলিং পরীক্ষার আগে তার শৈশবের কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের সঙ্গে এক সপ্তাহের অনুশীলন করতে, কিন্তু এই সুযোগ না পাওয়ায় তিনি সময়মতো বোলিং অ্যাকশন বৈধ করতে পারেননি। এছাড়া তার সাম্প্রতিক ব্যাটিং ফর্মও খুব ভালো ছিল না, তাই নির্বাচকরা তাকে কেবল ব্যাটার হিসেবে বিবেচনা করেননি।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সারের হয়ে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ খেলার সময় তার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহ ওঠে। পরে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) স্বাধীন মূল্যায়নের মাধ্যমে তার বোলিং অ্যাকশন অবৈধ ঘোষণা করে। এরপর সাকিব দুইবার পুনর্মূল্যায়ন পরীক্ষায় ব্যর্থ হন এবং বোলিং থেকে নিষিদ্ধ হন।
সাকিব বিসিবিকে অনুরোধ করেছিলেন তাকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য, যাতে তিনি কোচ সালাউদ্দিনের সঙ্গে বোলিং পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে পারেন। কিন্তু বিসিবি তার অনুরোধ না মেনে নেয়, যা তার জন্য হতাশাজনক ছিল এবং তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের পরিকল্পনায় বাধা সৃষ্টি করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এবার, সাকিব ইংল্যান্ডে গ্যারেথ ব্যাটির তত্ত্বাবধানে দুই সপ্তাহ কঠোর পরিশ্রম করে তৃতীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তার বন্ধু সিরাজুল্লাহ খাদেম নিপু জানান, সাকিব এবারের পরীক্ষায় যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে সফল হয়েছেন। তিনি বলেন, “প্রথম দুইবার হয়তো তাড়াহুড়ো ছিল, কিন্তু এবার সঠিক প্রস্তুতি নিয়েই সে সফল হয়েছে।”
সাকিবের এই সাফল্যের পর, এখন দেখার বিষয় হলো, বিসিবি তাকে দলে ফিরিয়ে নিয়ে আসবে কি না। কারণ বর্তমানে তিনি বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকা থেকেও বাদ পড়েছেন।
Leave a Reply