ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৩০টি সংসদীয় আসনের ফলাফল স্থগিত রেখে পুনর্গণনার আবেদন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে এসব আসনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ স্থগিত রাখতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে দলটি।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল।
জামায়াতের দাবি, আলোচিত আসনগুলোতে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের সঙ্গে বিজয়ী প্রার্থীদের ভোটের ব্যবধান খুবই সামান্য। অধিকাংশ আসনে এই ব্যবধান সর্বোচ্চ ১০ হাজার ভোটের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ভোট গণনার প্রাথমিক ধাপে তারা জয়ী হওয়ার ইঙ্গিত পেলেও চূড়ান্ত ফল ঘোষণায় তা পরিবর্তিত হয়েছে বলে অভিযোগ করে দলটি। সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ পুনর্গণনা হলে এসব আসনে তারা জয়ী হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছে জামায়াত।
যেসব আসনে পুনর্গণনার আবেদন করা হয়েছে, সেগুলো হলো—
পঞ্চগড়-১, ঠাকুরগাঁও-২, দিনাজপুর-৩ ও ৫, লালমনিরহাট-১ ও ২, গাইবান্ধা-৪, বগুড়া-৩, সিরাজগঞ্জ-১, যশোর-৩, খুলনা-৩ ও ৫, বরগুনা-১ ও ২, ঝালকাঠি-১, পিরোজপুর-২, ময়মনসিংহ-১ ও ৪ ও ১০, কিশোরগঞ্জ-৩, ঢাকা-৭, ঢাকা-৮, ঢাকা-১০, ঢাকা-১৩, ঢাকা-১৭, গোপালগঞ্জ-২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫, চাঁদপুর-৪, চট্টগ্রাম-১৪ ও কক্সবাজার-৪।
ব্রিফিংয়ে জামায়াতের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় জামায়াতের এজেন্ট, সমর্থক ও নারী কর্মীরা প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হচ্ছেন। কোথাও কোথাও প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার অভিযোগ, কিছু আসনে ফলাফল ঘোষণায় অস্বাভাবিক বিলম্ব হয়েছে, আবার কোথাও অস্বাভাবিক দ্রুততার সঙ্গে ফল ঘোষণা করা হয়েছে, যা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার ইঙ্গিত দেয়।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আরও বলেন, যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয় পেয়েছে, তারা নিজেদের নেতাকর্মীদের সহিংসতা রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখছে না। জামায়াতে ইসলামী একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা করেছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।