বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে আগামী পাঁচ বছর দলীয় নেতাকর্মীদের জনগণের পা ধরে থাকতে হবে। কারণ, বিএনপি বিশ্বাস করে—জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল নগরীর বেলস পার্ক মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন,
“১৩ তারিখ থেকে জনগণের পা ধরে থাকবেন। যার পেছনে জনগণের সমর্থন থাকে না, তার পরিণতি কী হয়, তা আমরা ৫ আগস্ট দেখেছি। বিএনপি বিশ্বাস করে জনগণই সব ক্ষমতার উৎস। জনগণের জন্যই বিএনপির সব পরিকল্পনা, জনগণের জন্যই দেশ।”
তিনি আরও বলেন,
“গণতন্ত্রের ভিত্তি শক্ত করতে হলে জনগণের সমর্থন জরুরি। ১২ তারিখ জনগণকে তাদের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”
নির্বাচন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তারেক রহমান বলেন,
“নতুন জালেম হিসেবে যারা পরিচিত, গুপ্তরা তাদের পরিচিত প্রিন্টিং প্রেসে ব্যালট ছাপাচ্ছে, সেখানে সিল মারছে। মা-বোনদের কাছে বিকাশ নম্বর চাচ্ছে, এনআইডি চাচ্ছে। তারা বলে সৎ মানুষের শাসন কায়েম করবে, অথচ এখনই ব্যালট ছাপাচ্ছে, বিকাশ নম্বর নিচ্ছে, নারীদের সম্মানহানি করছে।”
তিনি অভিযোগ করেন,
“আইডি হ্যাকড হয়েছে—এই অজুহাতে মিথ্যা কথা বলছে তারা। নিজেদের অপরাধ ঢাকতে মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছে। এদের দ্বারা সৎ মানুষের শাসন কায়েম সম্ভব নয়। জনগণকে এদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।”
একটি দলের নেতার বক্তব্য উদ্ধৃত করে তারেক রহমান বলেন,
“গুপ্তদের কুমিল্লা জেলার একজন নেতা বলেছেন—১২ তারিখ পর্যন্ত জনগণের পা ধরবে, ১২ তারিখের পর জনগণ তাদের পা ধরবে। এ কথায়ই বোঝা যায় তারা জনগণকে কতটা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে। তাদের মানসিকতা কোন পর্যায়ে, সেটাও পরিষ্কার হয়ে গেছে।”
তিনি আরও বলেন,
“এরা নির্বাচিত হলে জনগণের ভাগ্যে কী দুর্বিষহ জীবন নেমে আসবে, তা সহজেই বোঝা যায়। তাই জনগণকে তাদের উপযুক্ত শিক্ষা দিতে হবে এবং এদের সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।”
তারেক রহমান অভিযোগ করে বলেন,
“স্বৈরাচার সরকারের সঙ্গে তারা প্রতিবারই একসঙ্গে ছিল। তারা মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। ১৯৭১, ১৯৮৬, ১৯৯৬ এবং বিগত ১৫ বছর—সব সময়ই তারা একই পথে ছিল।”
তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন,
“জনগণের সঙ্গে থাকতে হবে, জনগণের পাশে থাকতে হবে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে জনগণের সেবা করাই বিএনপির রাজনীতি।”
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.