হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হলেও, এটি বন্ধ হয়ে গেলে সবচেয়ে বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে চীন—এমনটাই উঠে এসেছে রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও বহুমুখী জ্বালানি কৌশলের কারণে চীন অন্য অনেক দেশের তুলনায় বেশি প্রস্তুত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।বিশ্বের বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ চীন হলেও, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটি তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। বহু বছর ধরে নেওয়া নীতিগত পদক্ষেপের ফলে চীন তার জ্বালানি নির্ভরতা বৈচিত্র্যময় করতে সক্ষম হয়েছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, চীনের রয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বৈদ্যুতিক গাড়ির বহর, বিপুল তেলের মজুত, এবং তেল-গ্যাসের বহুমুখী সরবরাহ ব্যবস্থা। এছাড়া দেশটির বিদ্যুৎ ব্যবস্থা মূলত কয়লা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় আমদানিনির্ভরতা কম।
ফিনল্যান্ডভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান শক্তি ও নির্মল বায়ু গবেষণা কেন্দ্র সহ-প্রতিষ্ঠাতা লরি মাইলভির্তা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি চীনের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনারই প্রতিফলন। সমুদ্রপথে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর কৌশল এখন কার্যকর প্রমাণিত হচ্ছে।চীনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) ব্যবহার দ্রুত বেড়েছে। ২০২৫ সালের মধ্যে নতুন গাড়ির ২০ শতাংশ ইভি করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও, বাস্তবে তা ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে নতুন বিক্রিত গাড়ির প্রায় অর্ধেকই বৈদ্যুতিক, ফলে তেলের ব্যবহার ও আমদানি কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে।চীনের বিদ্যুৎ গ্রিড মূলত কয়লা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। সৌর ও বায়ুশক্তির দ্রুত সম্প্রসারণের ফলে দেশের বাড়তি বিদ্যুৎ চাহিদার বড় অংশই অভ্যন্তরীণভাবে পূরণ হচ্ছে, ফলে এলএনজি আমদানির প্রয়োজন কমছে।চীন কোনো একক দেশের ওপর নির্ভরশীল নয়। রাশিয়া, ইরান, ভেনিজুয়েলা সহ একাধিক দেশ থেকে তেল আমদানি করে তারা। এর ফলে সরবরাহ ঝুঁকি কমে।চীনের রয়েছে বিশাল কৌশলগত তেলের মজুত, যা দিয়ে প্রণালী বন্ধ হলেও কয়েক মাস চাহিদা মেটানো সম্ভব। এছাড়া রাশিয়া, মধ্য এশিয়া ও মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল ও গ্যাস আমদানি করে সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরতা কমিয়েছে দেশটি। ভবিষ্যতে‘পাওয়ার অফ সাইবেরিয়া ২’ পাইপলাইন চালু হলে এই সক্ষমতা আরও বাড়বে।চীন নিজস্ব তেল ও গ্যাস উৎপাদনও বাড়িয়েছে। যদিও তেলের মজুত সীমিত, তবে গ্যাস উৎপাদন ও পাইপলাইন আমদানির সমন্বয়ে এলএনজি নির্ভরতা কমেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈদ্যুতিক গাড়ির বিস্তার ও জ্বালানি ব্যবস্থার বৈচিত্র্যের কারণে চীনের তেলের চাহিদা শিগগিরই সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে কমতে শুরু করতে পারে। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটেও দেশটি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকতে পারবে।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.