গুম-খুনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের তিন মামলায় গ্রেফতার দেখানো ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে ঢাকা সেনানিবাসে স্থাপিত সাবজেলে রাখা হবে বলে জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন। বুধবার (২২ অক্টোবর) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই কর্মকর্তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত প্যানেল এই আদেশ দেন।
ব্যারিস্টার সারোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, সেনা কর্মকর্তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছেন, পুলিশ তাদের গ্রেফতার করেনি। তিনি আরও বলেন, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের ঢাকা সেনানিবাসের এমইএস বিল্ডিং নং–৫৪-এ স্থাপিত উপ-কারাগারে নিয়ে যাবে, যেটি সরকার গত ১২ অক্টোবর প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাময়িক কারাগার হিসেবে ঘোষণা করেছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধি ও ১৮৯৪ সালের প্রিজনস অ্যাক্টের আওতায় এই ভবনটি সাময়িকভাবে কারাগার হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
উল্লেখ্য, ৮ অক্টোবর গুম ও খুনের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। তাদের মধ্যে ২৫ জনই সেনা কর্মকর্তা, যার মধ্যে ডিজিএফআইয়ের সাবেক পাঁচ প্রধানও রয়েছেন। দেশের ইতিহাসে এটাই প্রথম, যখন এত সংখ্যক চাকরিরত সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একসঙ্গে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলো।