সুদানের দারফুর অঞ্চলের শহর এল-ফাশার এখন রক্তাক্ত এক যুদ্ধক্ষেত্র। জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় সতর্ক করে জানিয়েছে, শহরটি পরিণত হয়েছে “অকল্পনীয় নৃশংসতার শহরে”।
জাতিসংঘের হিসেবে, ২ লাখ ৬০ হাজার জনসংখ্যার শহর এল-ফাশার থেকে অন্তত ৮২ হাজার মানুষ পালিয়েছে, বাকিরা এখনো ভয়াবহ অবরুদ্ধ অবস্থায় আটকে রয়েছে।
জাতিসংঘের সুদানে নিযুক্ত মানবাধিকার প্রতিনিধি লি ফাং শনিবার এক ভিডিও বার্তায় বলেন,
“গত ১০ দিনে এল-ফাশারে নৃশংস হামলার মাত্রা ভয়াবহভাবে বেড়েছে। ১৮ মাসের অবরোধ সহ্য করা মানুষ এখন অকল্পনীয় হত্যাযজ্ঞের শিকার হচ্ছে।”
তিনি জানান, শত শত মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে নারী, শিশু ও আহতরা রয়েছেন—যারা হাসপাতাল ও স্কুলে আশ্রয় নিয়েছিলেন। অনেক পরিবার পালানোর সময় গুলিতে নিহত হয়েছে, আবার অনেকেই নিখোঁজ।
দারফুর রাজ্যের রাজধানী থেকে পালিয়ে আসা হাজারো শরণার্থী এখন তাওইলা শহরে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়েছেন। স্থানীয় এনজিও সূত্রে জানা গেছে, ১৬ হাজারেরও বেশি মানুষ সেখানে আশ্রয় নিয়েছে, যাদের অনেকেরই নেই পর্যাপ্ত খাবার, ওষুধ বা আশ্রয়ের ব্যবস্থা।
ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে—বেশিরভাগ মানুষ অস্থায়ী তাঁবুতে, কখনো বা শুধু কাপড় দিয়ে বানানো আশ্রয়ে দিন কাটাচ্ছে। অনেকে দিনে একবেলাও খাবার পাচ্ছে না।
‘ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস’ (MSF) জানিয়েছে, শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে অত্যন্ত উচ্চমাত্রার অপুষ্টি দেখা দিয়েছে।
নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের কর্মকর্তা ম্যাথিল্ড ভু জানান, অনেক পরিবার এমন শিশুদের সঙ্গে এসেছে, যারা তাদের নিজেদের সন্তান নয় — “অর্থাৎ, পথেই অনেক শিশুর মা-বাবা হারিয়ে গেছে, আটক হয়েছে বা নিহত হয়েছে।”
সুদানের পশ্চিম দারফুরে আরএসএফ (Rapid Support Forces) শহর দখল করার পর যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছে পাশের কোর্ডোফান অঞ্চলেও।
এল-ওবেইদ শহরে ড্রোন হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। সেনা সূত্রে জানা গেছে, চীনা তৈরি দুটি ড্রোন শনিবার সকালেই ভূপাতিত করা হয়েছে।
আরএসএফের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বাড়িয়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, শুধুমাত্র বারা শহর থেকে ৩৬ হাজারেরও বেশি মানুষ পালিয়ে গেছে।
২০২৩ সালের এপ্রিলে শুরু হওয়া সেনাবাহিনী ও আরএসএফের সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
জাতিসংঘ বলছে, প্রকৃত মৃত্যু সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে।
“কোয়াড” (মিশর, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্র) সম্প্রতি তিন মাসের মানবিক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে, যা পরবর্তীতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ভিত্তি হতে পারে।
তবে সরকার এখনো সে প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি।
দারফুরের গভর্নর মিনি আরকো মিনাওয়ি বলেছেন, “যে কোনো যুদ্ধবিরতি যদি আরএসএফের প্রত্যাহার নিশ্চিত না করে, তাহলে সুদান কার্যত বিভক্ত হয়ে পড়বে।”
এল-ফাশার পতনের পর আরএসএফ এখন দারফুরের সব পাঁচটি প্রাদেশিক রাজধানী নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে—যা এক বিভক্ত সুদানের আশঙ্কা আরও জোরালো করেছে।
সূত্র: আল জাজিরা







