1. arshinagargroup75@gmail.com : ratul :
  2. abclimited2020@gmail.com : Eng. Firoz-Uz Zaman (MD) : Eng. Firoz-Uz Zaman (MD)
শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন

সামরিক ড্রোন উৎপাদনে চীনের সঙ্গে চুক্তি: আকাশ প্রতিরক্ষায় নতুন অধ্যায়ে বাংলাদেশ

নিউজডেস্ক
  • Update Time : বুধবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৯০ Time View

বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদার করতে সামরিক ড্রোন উৎপাদনে চীনের সঙ্গে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ঢাকা সেনানিবাসে বিমানবাহিনীর এনেক্স ভবনে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ও চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান সিইটিসি ইন্টারন্যাশনালের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে একটি অত্যাধুনিক মনুষ্যবিহীন আকাশযান (ইউএভি) উৎপাদন ও সংযোজন কারখানা স্থাপন করা হবে। এটি ‘গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট (জিটুজি)’ ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হবে এবং এর মাধ্যমে প্রযুক্তি হস্তান্তর, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও যৌথ প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান। এ সময় চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্না, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরীসহ সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আইএসপিআর জানায়, এই প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনী প্রাথমিকভাবে মিডিয়াম অল্টিটিউড লো এন্ডুরেন্স (MALE) ড্রোন এবং ভার্টিক্যাল টেক-অফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং (VTOL) ড্রোন উৎপাদন ও সংযোজনের সক্ষমতা অর্জন করবে। পাশাপাশি, নিজস্ব ইউএভি ডিজাইন ও উৎপাদনের পথও উন্মুক্ত হবে। এসব ড্রোন সামরিক কাজে ব্যবহারের পাশাপাশি মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশীয় ইউএভি শিল্পে স্বনির্ভরতা অর্জনের পাশাপাশি দক্ষ অ্যারোস্পেস কর্মশক্তি গড়ে তোলা, প্রযুক্তি জ্ঞান বিনিময় এবং শিল্প-দক্ষতা উন্নয়ন সম্ভব হবে। ফলে জাতীয় প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতেও উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে এই প্রকল্প।

বিশ্বব্যাপী সামরিক ড্রোনের বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, যুক্তরাজ্য ও চীনের মতো দেশগুলো মিত্র রাষ্ট্রগুলোতে ড্রোন রপ্তানি করছে। আধুনিক যুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বায়ত্তশাসিত উড়োজাহাজ ব্যবস্থা ও উন্নত সেন্সর প্রযুক্তি ড্রোনকে যুদ্ধকৌশলের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করেছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক ড্রোন প্রযুক্তিতে চীন বর্তমানে বিশ্বে শীর্ষস্থানীয়। এআই-সমৃদ্ধ সোয়ার্ম ড্রোন, রাইফেল বহনকারী ড্রোন এবং সিএইচ-৭-এর মতো উন্নত ড্রোন তৈরি করে চীন যুদ্ধের কৌশলে বড় পরিবর্তন আনছে। একইসঙ্গে ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক ও ইরানও নিজস্ব ড্রোন উৎপাদনে দ্রুত এগোচ্ছে।

এ প্রেক্ষাপটে চীনের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ সামরিক ড্রোন প্রযুক্তিতে প্রবেশ করছে এক নতুন যুগে। আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি এটি দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পথ খুলে দেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Please Share This Post in Your Social Media

Comments are closed.

More News Of This Category
© All rights reserved © arshinagar tv 2025
Design & Develop BY Coder Boss