নেত্রকোনার বাজারগুলোতে শীতকালীন সবজির সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত অনেক সবজির দাম এখনো কমেনি। রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে জেলার মেছুয়া পাইকারি সবজি বাজার ঘুরে দেখা যায়, দেশীয় প্রায় সব ধরনের সবজির কেজি প্রতি দাম ৫০ টাকার ওপরে রয়ে গেছে।
তবে জামালপুর, শেরপুরসহ আশপাশের জেলা থেকে আসা সবজির দাম তুলনামূলকভাবে কম। এসব জেলার শিম, বেগুন ও টমেটো কেজি প্রতি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত শিমের দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। একইভাবে স্থানীয় জাতের টমেটো ও বেগুনের দাম কেজি প্রতি ৫৫ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে। কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে। জেলার উৎপাদিত আলু ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে তুলনামূলক কম দামে মিলছে বাঁধাকপি ও ফুলকপি। বাঁধাকপি প্রতি পিস ১২ থেকে ১৫ টাকা, কেজি হিসাবে ১৮ থেকে ২০ টাকা। ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা দরে।
সবজি বিক্রেতারা বলছেন, শীতের তীব্রতা ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে সরাসরি বাজারে সবজি নিয়ে আসা কৃষকদের দাবি, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়াই মূল কারণ।
আমতলা এলাকা থেকে আসা খুচরা বিক্রেতা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন,
‘পাইকারি বাজারেই যদি কপি ৩৫–৪০ টাকায় কিনতে হয়, তাহলে খুচরা বিক্রিতে কিছুটা বাড়তি দাম রাখতেই হয়।’
স্থানীয় কৃষক সিরাজ মিয়া জানান, তিনি নিজে স্থানীয় জাতের টমেটো উৎপাদন করে বাজারে বিক্রি করছেন।
তিনি বলেন, ‘খরচ বেশি হওয়ায় ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।’
বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কৃষক ও বিক্রেতারা উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় কমানো এবং নিয়মিত সরবরাহ বৃদ্ধির ওপর জোর দেন।