গণ-অভ্যুত্থান থেকে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে সরকার গঠনের পথে এগিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে দুই শতাধিক আসনে জয় পেয়েছে দলটি। তবে ভূমিধস বিজয় পেলেও নতুন সরকারের সামনে অপেক্ষা করছে বহুমাত্রিক ও জটিল চ্যালেঞ্জ।
একদিকে রাজনৈতিক জীবনে প্রথমবারের মতো সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অন্যদিকে আওয়ামী শাসনামলে ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্রীয় কাঠামো পুনর্গঠন, প্রশাসনিক সংস্কার, রাজনৈতিক ঐক্য ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার মতো কঠিন কাজ করতে হবে দলটিকে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষাটি হবে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা।
নড়বড়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রপ্তানি আয় বাড়ানোর চাপ, বিনিয়োগ স্থবিরতা এবং কর্মসংস্থান সংকট—সব মিলিয়ে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা হবে কঠিন দায়িত্ব।
এর পাশাপাশি বছরের শেষ দিকে এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের বিষয়টিও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
বিশ্লেষকদের পরামর্শ, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়াতে হবে এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে হবে।
দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করাও বিএনপির জন্য বড় পরীক্ষা হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান খান বলেন,
‘দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও জননিরাপত্তার ঘাটতি পূরণ করাই নতুন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি রাজনৈতিক অস্থিরতা দমন করে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হবে।’
তিনি আরও বলেন,
‘নতুন সরকারকে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়ে যাত্রা শুরু করতে হবে। পাঁচ বছরের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য অর্থনীতিকে অন্তত স্থিতিশীল অবস্থায় আনাই হবে বড় দায়িত্ব।’
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক শাহাব এনাম খান বলেন,
‘মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির পাশাপাশি মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক এখন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বিবেচনা করতে হবে। এতে বাংলাদেশ আশিয়ান ও অন্যান্য বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ বলেন,
‘দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয় পেলে অনেক সময় দলে স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব তৈরি হয়—সবকিছুর মালিক এখন আমরা—এই মানসিকতা বড় সংকটে পরিণত হতে পারে।’
গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ হয়।
এখন পর্যন্ত ঘোষিত ফল অনুযায়ী—
বিএনপি পেয়েছে ২০৯টি আসন
বিএনপির শরিকরা পেয়েছে ৩টি
জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি
জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের শরিকরা পেয়েছে ৯টি
স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন ৭টি
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পেয়েছে ১টি আসন
দুটি আসনের ফলাফল উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে, যেখানে বিএনপি প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.