নতুন সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে এ ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বলে সরকারের এক তথ্যবিবরণীতে জানানো হয়েছে।
এই ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বাংলাদেশ বেতারসহ সব বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একযোগে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে একাত্তরের মহান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দিনের কার্যক্রম শুরু করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। পরে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের সঙ্গে পুনরায় পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
বেলা ১২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় তার সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তারা মোনাজাতে অংশ নেন।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দুপুর থেকে সচিবালয়ে দাফতরিক কার্যক্রম শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে মন্ত্রিপরিষদ ভবনে (১ নম্বর ভবন) অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর দফতরে তার প্রথম দাফতরিক কার্যক্রম শুরু হয়।
দুপুর সাড়ে ১২টায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি ও সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি। বিকেল ৩টায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে বিশেষ বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী, যা নতুন সরকারের প্রথম নীতিনির্ধারণী বৈঠক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিকেল ৪টায় তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে মন্ত্রিপরিষদ ভবন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগ নতুন সাজে সজ্জিত করা হয়। পাশাপাশি প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জোরদার করা হয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সকাল থেকেই পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা তল্লাশি ও প্রহরায় নিয়োজিত রয়েছেন।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। একই অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ৪৯ জন শপথ নেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাদের শপথবাক্য পাঠ করান।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.