নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি রেজাউল করিমের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে তিনি রেজাউল করিমের কবর জিয়ারত করেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস দেন।
কবর জিয়ারত শেষে তিনি শেরপুর পৌর পার্ক মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেন। জামায়াত আমিরের আগমনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই মাঠে জনসমাগম বাড়তে থাকে এবং জনসভাস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। স্লোগান ও ব্যানার-ফেস্টুনে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যের শুরুতেই ডা. শফিকুর রহমান রেজাউল করিম হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত বিচার দাবি করেন। তিনি বলেন,
“যারা রেজাউল করিমকে হত্যা করেছে, এটি তাদের কাছে নতুন কিছু নয়। তারা নিজেদের দলীয় দুই শতাধিক নেতাকর্মীকেও হত্যা করেছে। এই হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি পরিকল্পিত সহিংসতার অংশ।”
তিনি আরও বলেন,
“ঘটনার তিন দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত একজন আসামিকেও গ্রেপ্তার করা হয়নি। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই—এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
সম্প্রতি নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে জামায়াত আমির বলেন,
“যারা নারীদের সম্মান করতে জানে না, তারাই আমার আইডি হ্যাক করে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছে। এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার।”
তিনি আরও বলেন,
“নারীদের মর্যাদা রক্ষা যারা করে না, তারাই আবার উল্টো নাটক করে রাস্তায় কর্মসূচি পালন করছে। এদের মুখোশ খুলে দিতে হবে।”
শেরপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, ক্ষমতায় গেলে শেরপুর জেলায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি ভেজিটেবল ইপিজেড (সবজি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পাঞ্চল) প্রতিষ্ঠা করা হবে। এতে স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শুধু দলীয় প্রতীকে ভোট চাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে গণভোটের প্রচারণাও চালান জামায়াত আমির। তিনি বলেন,
“দেশের আমূল পরিবর্তন আনতে হলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে। এই ‘হ্যাঁ’ ভোটই হবে পরিবর্তনের প্রথম ধাপ।”
জনসভায় শেরপুর ও আশপাশের উপজেলার বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।