আমদানি শুল্ক কমানো ও বিপুল পরিমাণ খেজুর দেশে আসার পরও সাধারণ মানুষের নাগালে আসেনি খেজুরের দাম। চলতি মাসের প্রথম ২১ দিনেই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে খালাস হয়েছে ৬২৪ মেট্রিক টন খেজুর। আর গত ছয় মাসে আমদানি হয়েছে ৩১ হাজার মেট্রিক টন। অথচ বাজারে কেজিপ্রতি দাম কমেছে মাত্র ২০ থেকে ৫০ টাকা।
গত ২৩ ডিসেম্বর খেজুর আমদানিতে শুল্কহার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হলে চট্টগ্রামের ফলমন্ডির আড়তগুলোতে খেজুরের সরবরাহ বাড়তে শুরু করে। আগে যেখানে অনেক আড়ত প্রায় ফাঁকা ছিল, সেখানে এখন আড়তগুলো খেজুরে ভরে উঠেছে। একই সঙ্গে বেড়েছে কেনাবেচাও।
চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ তৌহিদুল আলম বলেন,
“শুল্ক কমানোর কারণে আমদানি বেড়েছে, ফলে পাইকারি বাজার এখন মোটামুটি স্থিতিশীল। প্রতি কার্টনে দাম কমেছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা।”
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের তথ্য অনুযায়ী,
২০২৫ সালে বাংলাদেশে খেজুর আমদানি হয়েছে ৯৩ হাজার ৫৫৬ মেট্রিক টন।
২০২৪ সালে ছিল ৭৫ হাজার ৮৫১ মেট্রিক টন।
চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে খালাস হয়েছে ৩০ হাজার ৮৭৭ মেট্রিক টন খেজুর, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল মাত্র ১৪ হাজার ১৯৪ মেট্রিক টন।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন বলেন,
“শুল্ক কমানোর প্রভাব আমদানিতে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। আমদানি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। তাই খেজুরের দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকার কথা। তবে বাজার মনিটরিং জরুরি।”
তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। পাইকারি পর্যায়ে নানা কারসাজির কারণে খেজুরের দাম তেমন কমছে না।
চট্টগ্রামের ফলমন্ডির মেসার্স এস বি এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. বখতিয়ার বলেন,
“মাশরুক খেজুর আগে ১৮০০–১৯০০ টাকায় বিক্রি হতো, এখন আমদানিকারকের রেট ২২০০ টাকা। দাবাজ খেজুর ৩৬০০ টাকার বদলে এখন ৪২০০ টাকা। তাহলে দাম কমলো কোথায়?”
বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন ধরনের খেজুর বিক্রি হচ্ছে—
মেডজুল (৫ কেজি): ৬ হাজার টাকা
আজোয়া: ৪ হাজার টাকা
মরিয়ম: ৫ হাজার টাকা
সাবাবী: ২ হাজার ৮০০ টাকা
মাশরুক: ২ হাজার ২০০ টাকা
সুককারী: ১ হাজার ৭০০ টাকা
ফলমন্ডির ফ্রেশ ফ্রুটস অ্যান্ড ডাটার্স গ্যালারির মালিক শফিউল আজম টিপু বলেন,
“শুল্ক কমলেও দাম এখনও একটু বেশি। তবে প্রচুর আমদানি হওয়ায় রমজানে খেজুর সহজলভ্য হবে।”
মেসার্স নূরজাহান ট্রেডার্সের মালিক মো. ফয়সাল আহমেদ জানান,
“মাশরুক খেজুর আগে ১৮০০–১৯০০ টাকা ছিল, এখন ২২০০ টাকা। মাবরুম খেজুর ৪২০০–৪৫০০ টাকার বদলে এখন ৫ হাজার টাকার বেশি।”
ব্যবসায়ীরা বলছেন, সৌদি আরব ও মিশরে উৎপাদন পর্যায়েই খেজুরের দাম বেশি থাকায় দেশীয় বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে। পাশাপাশি আমদানির পর খেজুর ভোক্তার হাতে পৌঁছাতে কমপক্ষে আটবার হাত বদল হয়। প্রতিটি ধাপে বাড়ে পরিবহন খরচ ও মুনাফা।
বাংলাদেশে বছরে খেজুরের চাহিদা প্রায় ১ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে শুধু রমজান মাসেই প্রয়োজন হয় ৮০ থেকে ৯০ হাজার মেট্রিক টন। বাজারে নজরদারি জোরদার করা গেলে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা।