শাবান হিজরি বর্ষের অষ্টম মাস এবং এটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি মাস। রাসুলুল্লাহ ﷺ শাবান মাসে বেশি বেশি নফল রোজা রাখতেন এবং রমজানের প্রস্তুতির জন্য এই মাসকে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। হাদিসে এসেছে, তিনি রমজান ছাড়া আর কোনো মাসে পূর্ণ মাস রোজা রাখেননি; তবে শাবান মাসে সবচেয়ে বেশি রোজা রাখতেন।
হজরত আয়েশা (রা.) বলেন,
“আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ–কে রমজান ছাড়া আর কোনো মাসে পূর্ণ মাস রোজা রাখতে দেখিনি। আর শাবান মাস ছাড়া আর কোনো মাসে এত বেশি রোজা রাখতেও দেখিনি।” (বুখারি, মুসলিম)
শাবান মাসে নফল রোজা রাখার নির্দিষ্ট কিছু দিন রয়েছে, যেগুলোতে রোজা রাখা বিশেষ ফজিলতের:
যেসব দিনে নফল রোজা রাখা উত্তম:
১. আইয়ামে বীজ – প্রতি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ।
২. সোমবার ও বৃহস্পতিবার – সপ্তাহে দুই দিন নিয়মিত রোজা রাখা সুন্নত।
৩. মধ্য শাবানের আগে যতদিন সম্ভব – রাসুল ﷺ প্রায় পুরো শাবান মাসই রোজা রাখতেন।
৪. রমজানের প্রস্তুতির উদ্দেশ্যে – শরীর ও মনকে রোজার অভ্যাসে আনতে এই মাসে বেশি বেশি নফল রোজা রাখা উত্তম।
শাবান মাস সম্পর্কে আরেক হাদিসে এসেছে,
“আল্লাহ তাআলা অর্ধ শাবানের রাতে বান্দাদের প্রতি দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও হিংসাপোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।” (সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহিহা)
এই মাসে রাসুল ﷺ রমজানের প্রস্তুতিমূলক দোয়া পড়তেন—
اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي رَجَبٍ وَشَعْبَانَ وَبَلِّغْنَا رَمَضَانَ
অর্থ: হে আল্লাহ! আমাদের জন্য রজব ও শাবান মাসে বরকত দান করুন এবং আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন। (নাসায়ি, মুসনাদে আহমাদ)
শাবান মাসে নফল রোজা পালনের মাধ্যমে বান্দা রমজানের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে পারে এবং আল্লাহর বিশেষ রহমত ও বরকত লাভের সুযোগ পায়।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.