ফ্রেঞ্চ ফুটবলের শক্তিশালী ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেইন (পিএসজি) গত মৌসুমে তাদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ রাজস্ব আয়ের রেকর্ড গড়েছে। ক্লাবের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ মৌসুমে পিএসজির মোট রাজস্ব দাঁড়িয়েছে ৮৩৭ মিলিয়ন ইউরো, যা ক্লাবটির প্রতিষ্ঠার পর সর্বোচ্চ।
পিএসজির জন্য এটি ছিল এক স্বপ্নময় মৌসুম। প্রথমবারের মতো দলটি জিতে নেয় উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের কাঙ্ক্ষিত শিরোপা, যা ক্লাবটির আর্থিক সাফল্যের প্রধান চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। যদিও তারা ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা জিততে পারেনি, তবে মাঠের পারফরম্যান্সে ছিল অনন্য দাপট, যা তাদের রাজস্ব বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।
ক্লাবটির মোট আয় থেকে ৩৬৭ মিলিয়ন ইউরো এসেছে স্পন্সরশিপ ও বাণিজ্যিক চুক্তি থেকে, আর ১৭৫ মিলিয়ন ইউরো এসেছে ম্যাচ ডে’র আয় থেকে। পিএসজি তাদের হোম গ্রাউন্ড পার্ক দে প্রিন্সেসে টানা ১৭০টি ম্যাচে সব টিকিট বিক্রির বিরল রেকর্ডও গড়েছে।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও পিএসজি এখন বিশ্বের অন্যতম ধনী ক্লাব। গত মে মাসে ফোর্বস পিএসজির মূল্য নির্ধারণ করে ৪.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান ফুটবল ক্লাবের তালিকায় সপ্তম স্থানে রেখেছে। তালিকার শীর্ষে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ (৬.৭৫ বিলিয়ন ডলার), আর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড (৬.৬ বিলিয়ন ডলার) রয়েছে তৃতীয় স্থানে।
তবে রেকর্ড রাজস্ব আয় সত্ত্বেও লাভ বা ক্ষতির বিষয়ে এখনো কিছু জানায়নি ক্লাব কর্তৃপক্ষ। আগের মৌসুমে (২০২৩-২৪) পিএসজির রাজস্ব ছিল ৮০৬ মিলিয়ন ইউরো, কিন্তু তাতে প্রায় ৬০ মিলিয়ন ইউরো ক্ষতি গুনতে হয়েছিল তাদের।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে কাতার স্পোর্টস ইনভেস্টমেন্ট (QSI) পিএসজিকে কিনে নেওয়ার পর থেকে ক্লাবটি ইউরোপীয় ফুটবলে এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে, যা এখন আয়ের নতুন রেকর্ডে রূপ নিচ্ছে।