1. arshinagargroup75@gmail.com : ratul :
  2. abclimited2020@gmail.com : Eng. Firoz-Uz Zaman (MD) : Eng. Firoz-Uz Zaman (MD)
বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:২৫ পূর্বাহ্ন

রাষ্ট্র সংস্কারের পথে প্রধান বাধা আমলাতন্ত্র ও ‘ডিপ স্টেট’ বলছে বিআইজিডি প্রতিবেদন

নিউজডেস্ক
  • Update Time : শনিবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৯ Time View

বিআইজিডি (BRAC Institute of Governance and Development)-এর নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দেড় বছরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সংস্কারের পথে মূল বাধা হিসেবে আবিষ্কৃত হয়েছে আমলাতন্ত্র এবং ‘ডিপ স্টেট’। দেশীয় জনগণের ৫১ শতাংশ মনে করেন, আসন্ন সংসদ নির্বাচনের আগে রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করা উচিত।

প্রতিবেদনটি, যা ‘২০২৪-এর অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতি, সমাজ ও অর্থনীতির রূপান্তর’ শীর্ষক, বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়েছে। এতে দেখা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন স্তরে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও, ডিপ স্টেট এবং আমলাতন্ত্রের প্রতিরোধের মুখে সরকার এগোতে পারেনি। প্রতিবেদনে আশঙ্কা করা হয়েছে, নির্বাচনের পর আমলাতন্ত্র তাদের প্রভাব ব্যবহার করে সংস্কারের প্রক্রিয়াকে স্থগিত করতে পারে।

ডিপ স্টেট বলতে বোঝানো হয়েছে, অনির্বাচিত ব্যক্তিদের একটি সংগঠিত বলয়, যারা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করে এবং নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করে। প্রতিবেদনের জরিপ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর ৭১ শতাংশ মানুষ মনে করতেন দেশ রাজনৈতিকভাবে সঠিক পথে আছে; কিন্তু ২০২৫ সালের জুলাই মাসে এ ধারণা কমে দাঁড়িয়েছে ৪২ শতাংশে। অর্থনৈতিক অবস্থার দিক দিয়ে ২০২৪ সালের আগস্টে ৬০ শতাংশ মানুষ দেশকে সঠিক পথে মনে করলেও ২০২৫ সালের জুলাইতে তা কমে হয়েছে ৪৫ শতাংশে।

প্রতিবেদনে অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘দুর্বল শক্তির ভারসাম্য (Equilibrium of the Weak)’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। শুরুতে প্রধান উপদেষ্টার কাছে সংস্কারের জন্য যথেষ্ট বৈধতা ও জনসমর্থন ছিল, কিন্তু তিনি তা ব্যবহার করতে পারেননি। সরকারের কিছু উদ্যোগ থাকলেও, আমলাতন্ত্র এবং ডিপ স্টেটের বাধার কারণে তা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রধান উপদেষ্টা বিভিন্ন সময়ে তার অবস্থান পরিবর্তন করেছেন, ফলে সংস্কার কার্যক্রম সীমিত হয়েছে।

প্রতিবেদন আরও সতর্ক করেছে যে, নির্বাচনের পর আমলাতন্ত্র সংস্কারবিরোধী ভূমিকা নিলে গণতান্ত্রিক শাসনপ্রক্রিয়ার রূপান্তর থেমে যেতে পারে। এছাড়া, সংসদ ও রাজপথে ভবিষ্যতে দ্বন্দ্ব এবং সংঘাতের উৎস তৈরি হতে পারে, যদি নির্বাচনের পর সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হয়।

রাজনৈতিক দিক থেকে প্রতিবেদনে ১৯৯১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দলগুলোর আদর্শিক অবস্থানের পরিবর্তন তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ ১৯৯১ সালে সেন্টার-লেফট অবস্থানে থাকলেও ২০২৪ সালে সেন্টার-রাইটে অবস্থান করেছে। বিএনপি সেন্টার-রাইট অবস্থান ধরে রেখেছে, আর নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপি মধ্যপন্থী হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। জুলাই ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে শহুরে নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী, শিল্পশ্রমিক এবং শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। অভ্যুত্থানের পর ধর্মনিরপেক্ষ ও বামপন্থী দলগুলোর প্রভাব কমে গেছে, আর ইসলামি দলগুলোর প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী স্বতন্ত্রভাবে শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

নারীদের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থানে নারীরা সক্রিয় থাকলেও রাষ্ট্রগঠনে তাদের ক্ষমতা সীমিত রাখা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রক্ষণশীল গোষ্ঠীর তৎপরতার কারণে নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের কার্যক্রম কার্যকর হয়নি। এছাড়া অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে গণপিটুনি এবং সংঘবদ্ধ সহিংসতা বেড়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় প্রতিশোধপরায়ণ গোষ্ঠী, প্রভাবশালী মহল, উগ্র ইসলামপন্থী নেটওয়ার্ক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিপ্রাপ্ত জনতা, সুযোগসন্ধানী লুটেরা এবং স্বেচ্ছা বিচারকারীরা এ সহিংসতায় জড়িত। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত গণপিটুনিতে নিহত হয়েছে ২৯৫ জন, যার মধ্যে ২০২৫ সালে নিহত হয়েছে ১৯৭ জন। জরিপে ৮০ শতাংশ মানুষ গণপিটুনি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, এবং ৬২ শতাংশ নারী নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

বিআইজিডির উপদেষ্টা মির্জা হাসান বলেছেন, “প্রধান উপদেষ্টার পেছনে ছাত্রসমাজ ও জনসমর্থন ছিল। তিনি চাইলে বিস্তৃত সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিতে পারতেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি সমঝোতা করে ফেলেছেন—বিএনপি, ছাত্র এবং আমলাতন্ত্রের সঙ্গে। ঘোষণা দিলেন, কিন্তু বাস্তবায়নে তা করতে পারেননি।”

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category
© All rights reserved © arshinagar tv 2025
Design & Develop BY Coder Boss