দেশে পৌঁছানোর পর ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির মরদেহ কোথায় নেওয়া হবে—এ নিয়ে দিনভর নানা আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ইনকিলাব মঞ্চের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে জানানো হয়, আজ আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নেওয়া হচ্ছে না তার মরদেহ। আপাতত জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘরে রাখা হবে।
সন্ধ্যা ৬টার কিছু পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে হাদির মরদেহ পৌঁছায়। এ সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব। শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ ফ্রিজিং ভ্যানে করে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘরে পাঠানো হয়। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় আধা ঘণ্টা।
ইনকিলাব মঞ্চ জানিয়েছে, শনিবার (২০ ডিসেম্বর) ওসমান হাদির মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে নেওয়া হবে। বাদ জোহর সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জানাজা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে গুরুতর আহত হন ওসমান হাদি। প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।