দীর্ঘদিন পর দেশে আবারও উৎসবমুখর নির্বাচনের আবহ তৈরি হচ্ছে। কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ও প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণার পর আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনীতির মাঠে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় ধরা হলেও, রাজনৈতিক দলগুলো এখন থেকেই প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছে।
যদিও জুলাই সনদ ইস্যুর কারণে দলগুলোর গতি কিছুটা মন্থর, তবু নির্বাচনী মাঠ গোছাতে ব্যস্ত বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল। বিএনপি ইতোমধ্যে ২১৭টি আসনে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা সহযোগী দলগুলোর সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা পেয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ২৯৯টি আসনে একক প্রার্থী ঘোষণা করেছে, তবে ডিসেম্বরের মধ্যেই নতুন একটি জোট ঘোষণার পরিকল্পনা তাদের রয়েছে।
মধ্যপন্থী ও ধর্মভিত্তিক দল ছাড়াও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-কে ঘিরে জোটে যোগদানের আলোচনা চলছে। যদিও এনসিপি এখনো জোট বা একক নির্বাচনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয়নি। দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন,
“নেতাকর্মীদের নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছি, তবে জোটবদ্ধ না এককভাবে অংশ নেব—এটা এখনো নির্ধারিত হয়নি।”
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান,
“নির্বাচন নিয়ে সব দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে। নভেম্বরে তা আরও এগোবে, আর ডিসেম্বরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে।”
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন,
“নির্বাচনকেন্দ্রিক জনসংযোগ জোরদার করা হচ্ছে। তফসিল ঘোষণার পরই প্রার্থীদের মাঠে নামার সবুজ সংকেত দেওয়া হবে।”
সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের জোর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, আর দেশজুড়ে জল্পনা—আসছে কি নতুন রাজনৈতিক জোট?