জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠনের প্রস্তাব স্পষ্টভাবে নাকচ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী পদে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী তারেক রহমান। একই সঙ্গে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে এককভাবেই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী তিনি। শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান তারেক রহমান।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছে ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী। একসময় নিষিদ্ধ থাকা দলটি এখন আবার রাজনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থানে ফিরে এসেছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াত একসঙ্গে সরকার পরিচালনা করলেও, এবার সেই জোট পুনরুজ্জীবিত করার প্রস্তাব দেয় জামায়াত। তবে দেশকে স্থিতিশীল রাখতে ঐক্য সরকার গঠনের সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন তারেক রহমান।
নিজ দলের কার্যালয়ে ঐক্য সরকারের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সঙ্গে কীভাবে সরকার গঠন করবো? তাহলে বিরোধী দলে থাকবে কে?” তিনি আরও বলেন, “আমি জানি না তারা কয়টি আসন পাবে। তবে তারা যদি বিরোধী দলে থাকে, আশা করি তারা একটি ভালো বিরোধী দল হবে।”
তারেক রহমানের সহযোগীরা জানিয়েছেন, বিএনপি ৩০০ আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ের বিষয়ে আশাবাদী। এর মধ্যে ২৯২টি আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং বাকি আসনগুলোতে জোটের শরিকরা প্রার্থী দিয়েছে। তবে নির্দিষ্ট আসন সংখ্যা উল্লেখ করতে রাজি হননি বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, “আমরা আত্মবিশ্বাসী, সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক আসন আমাদের থাকবে।”
বিভিন্ন জনমত জরিপে বিএনপির জয়ের পূর্বাভাস মিললেও জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের কাছ থেকে শক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে দলটি। এই জোটে তরুণদের নেতৃত্বে শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলন থেকে উঠে আসা জেন-জি দলের জাতীয় নাগরিক পার্টিও (এনসিপি) রয়েছে।
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ একটি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে চলছে। পরে ঢাকার একটি আদালত দমন-পীড়নে ভূমিকার অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করলেও তাকে আশ্রয় দেওয়ার ভারতের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে চাপে ফেলেছে। একই সঙ্গে এতে চীনের জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ভারতের পরিবর্তে চীনের দিকে ঝুঁকবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, “প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে পারে—এমন অংশীদারই আমাদের প্রয়োজন।” তিনি বলেন, “যদি আমরা সরকারে আসি, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে, ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে হবে, যাতে মানুষ ভালোভাবে জীবনযাপন করতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে যে দেশ আমাদের জনগণ ও দেশের জন্য উপযোগী প্রস্তাব দেবে, তাদের সঙ্গেই আমরা বন্ধুত্ব করবো—নির্দিষ্ট কোনো দেশের সঙ্গে নয়।”
শেখ হাসিনার সন্তানেরা দেশে ফিরে রাজনীতিতে যুক্ত হতে পারবেন কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, “যদি কেউ জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হন এবং মানুষ তাকে স্বাগত জানায়, তাহলে রাজনীতি করার অধিকার সবারই আছে।”
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.