যে তিন দিনে সারা বছরের রোজার সওয়াব
রোজা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। সারা বছর নিয়মিত রোজা রাখা সবার পক্ষে সম্ভব না হলেও ইসলাম আমাদের জন্য সহজ ও বরকতময় একটি পথ খুলে দিয়েছে। প্রতি চান্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা রাখলে সারা বছরের রোজার সওয়াব পাওয়া যায়।
এই তিন দিনে চাঁদ পূর্ণ ও উজ্জ্বল থাকায় দিনগুলোকে বলা হয় আইয়ামে বিজ বা উজ্জ্বল দিন।
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
“হে আব্দুল্লাহ! তোমার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, তুমি প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখবে। কেননা প্রতিটি নেক আমলের বদলে দশগুণ সওয়াব রয়েছে। এভাবে সারা বছরের রোজার সওয়াব হয়ে যায়।”
(সহিহ মুসলিম: ২৬১৯)
প্রতি চান্দ্র মাসে এই তিনটি রোজা রাখা মুস্তাহাব। রাসুলুল্লাহ (সা.) কখনো এই রোজাগুলো ছাড়তেন না— এমনকি সফরকালেও। তবে উম্মতের জন্য এটিকে বাধ্যতামূলক করা হয়নি।
অন্য হাদিসে এসেছে,
“তুমি যদি প্রতি মাসে তিনটি রোজা রাখতে চাও, তাহলে তেরো, চৌদ্দ ও পনেরো তারিখে রোজা রাখবে।”
(তিরমিজি, নাসায়ি)
হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) প্রতিদিন রোজা ও সারা রাত নামাজ আদায় করতেন। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে নিষেধ করে বলেন,
“এরূপ করো না। কিছুদিন রোজা রাখো, আবার কিছুদিন ছেড়ে দাও। নামাজ আদায় করো, আবার ঘুমাও। কেননা তোমার শরীরের, চোখের, স্ত্রীর ও মেহমানের ওপর তোমার হক রয়েছে।”
(সহিহ বুখারি)
এরপর নবীজি (সা.) আবারও মাসে তিন দিনের রোজার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
একটি বর্ণনায় এসেছে, হজরত আদম ও হাওয়া (আ.) নিষিদ্ধ ফল ভক্ষণ করার পর তাদের দেহের উজ্জ্বলতা হারিয়ে যায়। পরে আল্লাহর নির্দেশে চান্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা রাখার মাধ্যমে তাদের দেহ পুনরায় উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। সে কারণেই দিনগুলোকে আইয়ামে বিজ বা উজ্জ্বলতার দিন বলা হয়।
১৪৪৬ হিজরি সনের রজব মাসে আইয়ামে বিজের দিনগুলো হলো, শনিবার — ৩ জানুয়ারি (১৩ রজব)। রোববার — ৪ জানুয়ারি (১৪ রজব)। সোমবার — ৫ জানুয়ারি (১৫ রজব)
আইয়ামে বিজের রোজা রাখতে ইচ্ছুক ব্যক্তিকে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে সেহরি খেয়ে রোজার নিয়ত করতে হবে। ধারাবাহিকভাবে এই তিন দিন রোজা রাখলে ইনশাআল্লাহ এই ফজিলতপূর্ণ ইবাদতের সওয়াব অর্জিত হবে।







