যত বিতর্ক, তত ব্যাখ্যা—যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানিয়েছেন, নতুন আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণ প্রকল্পটি কোনোভাবেই রক্ষীবাহিনী বা মিলিশিয়া গঠনের উদ্দেশ্যে নয়। বরং এটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণপ্রতিরক্ষার জন্য তরুণদের প্রাথমিক আত্মরক্ষা-দক্ষতা অর্জনের একটি পাইলট উদ্যোগ।
এই প্রকল্পের আওতায় ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীরা অংশ নিতে পারবেন। প্রশিক্ষণে থাকছে জুডো, কারাতে, তায়কোয়ান্দো এবং শুটিং (এয়ারগান) বিষয়। মোট ৮ হাজার ৮৫০ জনকে আবাসিকভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-তে। প্রকল্পটি ১০০টি স্লটে ভাগ করে আগামী দুই বছরের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে, যার মোট বাজেট ধরা হয়েছে ২৮ কোটি টাকা।
উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এটি কোনো সামরিক বাহিনী বা স্থায়ী মিলিশিয়া নয়। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের অস্ত্র সরবরাহ করা হবে না এবং কোনো ধরনের রিক্রুটমেন্ট প্রক্রিয়াও থাকবে না। প্রশিক্ষণ শেষ হলে তারা নিজ নিজ নিয়মিত জীবনে ফিরে যাবেন। সরকারের কাছে শুধু তাদের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে, যাতে জাতীয় সংকট বা জরুরি অবস্থায় প্রয়োজনে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়।
তিনি আরও জানান, পুরো প্রকল্পটি সরকারি নীতিমালার আওতায় এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এটি আগামি নির্বাচন বা কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে না। কিছু মহল প্রকল্পটিকে ১৯৭২ সালের রক্ষীবাহিনীর সঙ্গে তুলনা করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, এসব আশঙ্কা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বিদেশি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর গুজব।
সরকারি পক্ষ বলছে, এটি একটি সীমিত পরিসরে ক্রীড়া ও আত্মরক্ষা-ভিত্তিক প্রশিক্ষণমূলক উদ্যোগ, যার মূল লক্ষ্য গণপ্রতিরক্ষা সক্ষমতা তৈরি। তবে সমালোচকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এটি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক বা সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার হতে পারে। প্রশিক্ষণের ধরন, নিয়োগ প্রক্রিয়া ও তৎপরতার স্বচ্ছতা নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন।
সবশেষে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ আশ্বস্ত করেছেন যে প্রকল্পটির সব কার্যক্রম পাবলিক ডকুমেন্টেড এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হবে। তাঁর ভাষায়, “এটি তরুণদের আত্মনির্ভরশীল ও দেশপ্রেমিক করে তোলার একটি ক্রীড়া-ভিত্তিক উদ্যোগ, কোনো রক্ষীবাহিনী নয়।”