মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে উত্তেজনা দিন দিন আরও তীব্র আকার ধারণ করছে। অঞ্চলটিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। আধুনিক যুদ্ধবিমান, রণতরী ও নিয়মিত সামরিক মহড়ার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘাত শুরু হতে পারে—এমন আশঙ্কা বাড়ছে।
তবে মার্কিন সামরিক চাপ কিংবা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর হুমকিতে বসে নেই ইরান। একদিকে কূটনৈতিকভাবে সংকট নিরসনের জন্য আলোচনার টেবিলে বসছে দেশটি, অন্যদিকে সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য সামরিক প্রস্তুতিও জোরদার করেছে তেহরান।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন সম্প্রতি ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনার স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব স্থাপনা আগের তুলনায় আরও সুরক্ষিত ও শক্তিশালী করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র পুনর্নির্মাণ করেছে দেশটি।
ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘর্ষে ফাইটার জেট ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা টের পাওয়ায়, সম্ভাব্য যুদ্ধ বিবেচনায় ইরান নতুন যুদ্ধবিমান সংগ্রহ করেছে এবং রাশিয়া থেকে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়েছে। বিমান ঘাঁটিগুলোও সংস্কার করা হচ্ছে, যাতে আকস্মিক হামলার মুখে দ্রুত পাল্টা জবাব দেওয়া যায়।
ইরানের সেমনান প্রদেশের শাহরুদ শহরে অবস্থিত দেশের সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রটি দ্রুত পুনর্গঠন করা হয়েছে। যুদ্ধকালীন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো মেরামতের পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন এই কেন্দ্রে আগের তুলনায় অনেক দ্রুত ও বেশি পরিমাণে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি সম্ভব।
যুদ্ধ প্রস্তুতির পাশাপাশি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা জেনেভা-য় তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আলোচনায় বসেন। তবে বৈঠক থেকে কোনো চূড়ান্ত সমাধান আসেনি।
এদিকে, ইরান নতুন করে ‘ডিফেন্স কাউন্সিল’ গঠন করে যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি জোরদার করছে। সাবেক আইআরজিসি কমান্ডার আলী শামখানিকে এই কাউন্সিলের সচিব নিযুক্ত করা হয়েছে। লক্ষ্য হলো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা এবং সম্ভাব্য হুমকির দ্রুত মোকাবিলা করা।
পারস্য উপসাগরেও ব্যাপক নৌ-মহড়া চালাচ্ছে ইরান। সম্প্রতি রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ নৌ-মহড়া করেছে দেশটি। বিশেষ করে স্ট্রেইট অফ হরমুজ এলাকায় সামরিক তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে, যা বৈশ্বিক তেল পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ।
অভ্যন্তরীণভাবে ইরানে ছড়িয়ে পড়া আন্দোলনও কঠোর হাতে দমন করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে—যদি যুদ্ধ শুরু হয়, তাহলে তা শুধু সামরিক নয়, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকেও বড় ক্ষতির কারণ হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং ইরানের যুদ্ধ প্রস্তুতি বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অনেক বিশেষজ্ঞ আশঙ্কা করছেন, যুদ্ধ শুরু হলে বৈশ্বিক তেলবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.